নতুন নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ; চাকরি না ফিরলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি, সেবা ব্যাহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট ইনফো ডটকম
চাকরি বহালের দাবিতে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আউটসোর্সিং কর্মীরা।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে দিনভর চলা এই কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগের (আউটডোর) সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কর্মরত ৬৬ জনকে বাদ দিয়ে নতুন করে ৯৪ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সকাল আটটার দিকে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনিক বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে করিডোরে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞ কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরি না ফিরিয়ে দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তাঁরা।
আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদের বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন বলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে কাজ করছেন। করোনাকালেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন। অভিজ্ঞ কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া অন্যায়। তাঁরা চাকরি বহাল চান।
আন্দোলনকারী কর্মী আকলিমা বলেন, তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে কাজ করছেন। সামান্য বেতনের এই চাকরিই আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এভাবে চাকুরীটা চলে গেলে আমরা খাব কি।
আরেক কর্মী কার্জন শেখ বলেন, ছয় মাস ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া। এর মধ্যেই কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়া চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে চাকরি ফিরে পেতে ৬৬ জন কর্মচারী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট একটি আবেদন করেছেন।
আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকেই লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই চাকরি পেয়েছেন। ভাইভার জন্য প্রকাশিত তালিকা ও চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকার মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী হাসপাতালে যোগ দেন। তাঁদের কার্যকাল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা হাসপাতালে যোগ দিতে এলে তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সৌরভ কুমার মণ্ডল এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত এক মাস ধরে চাকরি বহালের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন করে আসছেন আউটসোর্সিং কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে পরিচিতি, প্রভাব এবং একই এলাকার ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে ৬৬টি পরিবার জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। পৃথকভাবে কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, পুরোনো কর্মচারীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত যে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় বহির্বিভাগের সেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের কক্ষে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এসআই/আইএইচ/বিআই/০১ জুলাই, ২০২৬
Bagerhat Info Largest Bagerhat Online Portal for Latest News, Blog, Informations & Many More