উদ্ধারে অংশ না নিয়েও ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

মংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকার ডুবো চরে আটকে যাওয়া বিদেশী জাহাজটি উদ্ধার না করেই বন্দর  কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উদ্ধারে বন্দরের নিজস্ব উদ্ধারকারী জাহাজ দু’টি অংশ না নিয়েও উদ্ধার খরচ (ভাড়া) বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ জাহাজ মালিক পক্ষ পি এন্ড আই ক্লাবের।

তাদের অভিযোগ ডুবো চরে আটকে যাওয়া জাহাজের কাছে যাওয়ার আগেই ওই উদ্ধারকারী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় তারা উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পারেনি। তবে বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ সারথি-২ ও অগ্নিপ্রহরী উদ্ধার খরচ (ভাড়া) বাবদ ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সেবা দিয়ে ও আইন অনুযায়ীই বিল করেছে।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও জাহাজের পি এন্ড আই (ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড) ক্লাবের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ২২ হাজার মে: টন টিএসপি সার নিয়ে ফিলিপিন পতাকাবাহী জাহাজ এম,ভি তুপিমেদেন ২৮ সেপ্টেম্বর মংলা বন্দরে আসার পথিমধ্যে ফেয়ারওয়ের ১০ নম্বর বয়া এলাকার ডুবো চরে আটকে যায়। ওইদিনই মালিকপক্ষ জাহাজটি উদ্ধারে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্ধারকারী জাহাজ চায়।

এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৯ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকারী জাহাজ সারথি-২ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠালেও পথিমধ্যে সারথির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় উদ্ধার কাজ চালাতে ব্যর্থ হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর জাহাজ মালিকপক্ষ নতুন আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ চাইলেও সেদিন তাও দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তিনি অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে উদ্ধারকারী জাহাজ দিতে না পারায় বিদেশী জাহাজটিকে ঝুকিমুক্ত ও কিছুটা হালকা করার জন্য দুর্ঘটনাকবলিতস্থানে ২টি লাইটারেজ’র মাধ্যমে জাহাজ থেকে প্রায় ২৪শ মে:টন সার খালাস করে জাহাজ মালিকপক্ষ।

এরিমধ্যে ২ অক্টোবর বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়ার জন্য অগ্নিপ্রহরীকে ঘটনাস্থলে পাঠালেও অগ্নিপ্রহরী জাহাজের কাছে পৌছামাত্র জাহাজের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে অগ্নিপ্রহরীও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ তার।

বিদেশী জাহাজ থেকে ২৪শ মে: টন সার খালাসের পর জাহাজ হালকা হওয়াতে জাহাজের পিছনের অংশ ডুবো চরে উঠে আরো বিপদ সম্মুখীন হয়ে পড়ে। ৩ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে জাহাজটি ডুবো চর থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

ডুবো চর থেকে সরিয়ে ওই দিন (৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরের হিরণ পয়েন্ট পাইলট ষ্টেশনে নিয়ে আসে। সেখান থেকে বন্দরের পাইলট আবু আব্দুল্লাহ জাহাজটির পণ্য খালাসের জন্য হাড়বাড়িয়ায় নিয়ে রাখে।

হাড়বাড়িয়ায় অবস্থানরত বিদেশী এ জাহাজ থেকে ৮ অক্টোবর সমুদয় মাল খালাস হয়। ওইদিনই জাহাজটি বন্দর ত্যাগের কথা থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের সারথি ও অগ্নিপ্রহরীর ভাড়া বাবদ জাহাজ মালিককে ৩০লাখ টাকার বিল পরিশোধের নোটিশ দেয়।

এতে নোটিশ জটিলতায় জাহাটি বন্দরে আটকে যায় বলে অভিযোগ মো: রফিকুল ইসলামের।

শেষ পর্যন্ত ৯ অক্টোবর জাহাজ মালিক প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব শাখায় পেঅর্ডারের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা জমা দিলে জাহাজটি বন্দর ত্যাগের অনুমতি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন রফিক অভিযোগ করে বলেন, তুপিমেদেন ডুবো চরে আটকে যাওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্ধারকারী জাহাজ ও পাইলট চাওয়া হলেও যথাসময়ে তারা তা পাঠাতে ব্যর্থ হয়।পরবর্তীতে উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠালেও দুটি জাহাজের ইঞ্জিন ত্রুটি হওয়ায় তারা উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পারেনি।

তারপরও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন সেবা না দিয়ে অযৌক্তিকভাবে ৩০ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করেছে। এতে বন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া জাহাজ মালিকেরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে এ বন্দর ব্যবহারে জাহাজ মালিক ও ব্যবসারীদের অনিহা বেড়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বন্দরে আধুনিক নৌযান ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ নৌযান দিয়ে চলছে অপারেশনের কাজ। তার প্রমাণ মিলেছে তুপিমেদেন উদ্ধারে বন্দরের সহযোগিতা চেয়ে। বিলম্ব করে কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী যে জাহাজ পাঠিয়েছে সেই সারথি ও অগ্নিপ্রহরী যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অপারশেনে ব্যর্থ হয়েছে। সময়মত জাহাজটি ডুবো চর থেকে সরিয়ে নিতে না পারলে জাহাজটি পরিত্যাক্ষ ঘোষণা করতে হতো বলেও জানান ক্যাপ্টেন রফিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর হাবিবুর রহমান ভুইয়া বলেন, ঐ জাহাজটিকে উদ্ধারের জন্যে আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজ (টাগ বোট) প্রায় ১১৫ নটিক্যাল কি: মিটার পাড়ি দিয়ে সেখানে গিয়েছিল। আর আমাদের বোটের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

প্রথম বোটটির প্রপেলারে দড়ি পেচিয়ে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু সে সমস্যাতো ওই জাহাজটিকে উদ্ধারের জন্যে। আমরা বিধি মোতাবেকই (আর্ন্তজাতিক নিয়মঅনুসারে) বিল করেছি। তিনি প্রশ্ন রাখেন আমরা যদি অতিরিক্ত বিলই করে থাকি তাহলে তারা তা পরিশোধ করল কেন?

নেভিগেশন নিয়ম না মেনে ক্যাপ্টেন ভুলভাবে ভুলপথে জাহাজ চালিয়ে বিপদগ্রস্থ হয়েছে। আর এ জন্য তো জাহাজের ক্যাপ্টেনই দায়ি। নিজেদের ভুল ঢাকার জন্য তারা অপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, ক্যাপ্টেনের অসাবধানতাবশত জাহাজ চরে আটকে যাওয়ার পর আমাদের কাছে উদ্ধারকারী জাহাজ চেয়েছে আমরা বিধিমোতাবেক তাদের কাছে জাহাজ ভাড়া দিই এবং ভাড়া নিয়েছি। তাদের উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়।

২৩ অক্টোবর ২০১৪ :: আবু হোসাইন সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসআই হক-এনআরএডিটর/বিআই
আবু হোসাইন সুমনWriter: আবু হোসাইন সুমন (11 Posts)