আবারও জ্বলছে সুন্দরবন

বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ধানসাগর স্টেশনের বনকর্মীরা স্টেশনের ২৫ নাম্বার কম্পার্টমেন্টের তুলাতলায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান।

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বেলায়েত হোসেন বলেন, বনকর্মীরা স্টেশনের তুলাতলায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে ফায়ার লাইন কেটে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

এর আগে গত ২৭ মার্চ, ১৩ ও ১৮ এপ্রিল ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় আগুন ধরে। আগুন লাগার জন্য বনবিভাগ স্থানীয় কয়েক দুর্বৃত্তকে দায়ী করে।

ঘটনাস্থল থেকে সন্ধ্যায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান,আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রনে কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত আগুনে ক্ষতির পরিমাণ বা বনের কতোটা এলাকা পুড়ছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বন বিভাগ।

এদিকে, চতুর্থবার আগুন লাগার ঘটনায় বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. জহির উদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বারবার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগে আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় ১১ চোরা কারবারীর বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। এজন্য তারা পরিকল্পিতভাবে আবারও বনে অগ্নিসংযোগ করেছে। সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে চক্রটি একের পর এক নাশকতা চালাচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলার স্থানীয় ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, লোকালয়ের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আগুন দেখে মনে হচ্ছে, গেল কয়েক বারের লাগা আগুনের চেয়ে এবার বেশি এলাকা জুড়ে আগুন লেগেছে। লোকালয় থেকে আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার বনের ভেতর এ আগুন লেগেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৭ মার্চ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী টহল ফাঁড়ি কাছে প্রথম আগুন লাগে। এর পর ১৩ এপ্রিল নাংলী ফাঁড়ি এলাকার আব্দুল্লাহর ছিলা ও ১৮ এপ্রিল একই এলাকায় আবারও আগুন লাগে।

শরণখোলা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুর গ্রাম সংলগ্ন ভোলা নদী তীরবর্তী সুন্দরবনে সর্বশেষ লাগা তিন অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ একর বনভূমি পুড়ে গেছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় ১৩ এবং ১৮ এপ্রিল নাংলী ক্যাম্পের আব্দুল্লাহর ছিলা, পঁচাকোড়ালিয়া ও নাপিতখালী বন এলাকায় আগুনের জন্য বনবিভাগ স্থানীয় কয়েক দুর্বৃত্তকে দায়ী করে। এ ঘটনায় বন আইনে পৃথক দু’টি মামলা করে বনবিভাগ। তবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

২৭ এপ্রিল :: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1267 Posts)