বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’, দুই নম্বর সতর্কসংকেত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।

চলতি মে মাসে তিন দফা তাপপ্রবাহের রেশ কাটতে না কাটতেই উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। রোববার দিনগত মধ্যরাতে লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ জন্য চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজারকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (৩০ মে) ভোরে দেশের চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এসময় এর গতিবেগ ঘন্টায় ৮৮ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে।

আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার (২৯ মে) রাত ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।

এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়ার সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ জন্য উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা থেকে ক্রম অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এর নাম হয়েছে ‘মোরা (MORA)’। এটি থ্যাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত নাম।

সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং পরদিন তা ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় রূপ নেয়। পরে সেটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে।

ভিডিও-

এইচ//এসআই/বিআই/২৯ মে, ২০১৭

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1300 Posts)