কন্যাকে পিতা-৪: একুশে বৃত্তান্ত | আহরার হোসেন

মাগো, এবার তুমি প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে গিয়ে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালে। আজ ফেব্রুয়ারির বাইশ। আজ তোমার পাঁচ মাস পূর্ণ হল। এর আগের দিনটি ছিল অমর একুশে, মাতৃভাষা দিবস। তোমাকে যে আমি আমার মায়ের ভাষায় মাগো বলে ডাকতে পারছি, সেই অধিকার আদায়ের জন্য বহু বহু বছর আগের এই দিনটিতে তোমার পূর্বপুরুষেরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

তোমার জন্ম যদিও শহরে, কিন্তু এবছর প্রথমবারের মত আমি আর তোমার মা তোমাকে নিয়ে গিয়েছিলাম গ্রামের এক শহীদ মিনারে। তোমার দাদু বাড়ির গ্রামে। আমার শৈশব কৈশোরের গ্রামে। এবারই তুমি প্রথম দাদু বাড়িতে গেলে। এই গ্রামের কথা আমার আগের নানা লেখায় এসেছে, ভবিষ্যতের বিভিন্ন লেখায়ও আসবে। দাদু বাড়িতে তোমার প্রথম সফরের বিস্তারিত পরের চিঠিতে লিখব বলে আশা রাখি।

মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শহীদ মিনারের বেদীতে ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি।

মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শহীদ মিনারের বেদীতে ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি।

এবার তোমাকে তোমার প্রতিভা দিদার গল্প বলি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালাম বরকতেরা প্রাণ হারিয়েছিলেন; কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভাষা মতিন, প্রতিভা মুৎসুদ্দির মত অনেক সম্মুখ সারির আন্দোলনকারী। এদের দু একজন আজও বেঁচে আছেন। প্রতিভা মুৎসুদ্দি তাদের একজন। তোমার প্রতিভা দিদা। তিনি তোমার পিতার বড়ই আপন মানুষ। প্রায়ই সক্কালবেলা আমার ঘুম ভাঙে তার ফোনকলে। তোমার যখন জন্ম হয় তখন তোমার আগমন আর তোমার মায়ের স্বাস্থ্য নিয়েও উৎকণ্ঠা দেখেছি তার মধ্যে। দিনের মধ্যে কয়েকবার তখন তিনি ফোন দিতেন আমায়। এমন একজন মহৎ মানুষ তোমার পিতার মত অকিঞ্চিৎকর একজনকে বিশেষ আপনজন জ্ঞান করেন তাতে আমি অতিশয় গর্ববোধ করি। কম্পিউটারের বোতাম টিপলেই তুমি তার সম্পর্কে সবিস্তার জানতে পারবে।

তুমি এই লেখা যখন পড়তে পারছ ততদিনে হয়ত কিছুটা হলেও জেনে গেছ, বাঙালীদের জীবনে এই একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাব কতখানি। এটা অত্যন্ত গুরুগম্ভীর একটি দিন, অত্যন্ত শোকসন্তপ্ত একটি দিন, বিরাট অর্জনের দিনও বটে। কিন্তু আমাদের শৈশবে হয়তো এই দিনটিকে পালন করতে গিয়ে কখনো কখনো দিনটির ভাবগাম্ভীর্য আমরা রক্ষা করতে পারিনি। কখনো কখনো আমরা দিনটিকে করে তুলেছি উৎসবমুখর। অবশ্য বড়রা আজও এটা করে। আবার এটাও সত্য ফেব্রুয়ারি মাসটা নানা কারণেই উৎসবের এক মাস, ফলে এই শোকের দিনটিতে এসে কেউ একটু আধটু উ‍ৎসব-টুৎসব করে ফেললে তাদের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না। শৈশবে আমরা প্রতি বছর একটি করে শহীদ মিনার বানাতাম।

আমার প্রথম যে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের কথা স্মরণ করতে পারি সেটি ছিল ঢাকায়। তোমার হাসি দিদার বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম সেবার। তিনি আমার বড় মামি। আমার বড় মামা দরবেশ আলী খান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার ফুলার রোডের কোয়ার্টারেই মায়ের জঠরে বেড়ে উঠেছি আমি। যখনকার কথা বলছি, তখন মামা প্রয়াত। পরিবার নিয়ে মামিরা কলাবাগানের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সেই সময়ে একুশে ফেব্রুয়ারি, ষোলই ডিসেম্বর, ছাব্বিশে মার্চে ঢাকার অলিগলি ছোট ছোট কাগজের পতাকা দিয়ে ছেয়ে যেত। এরশাদ সরকারের শাসনকাল। এক বান্ডিলে একশোটা কাগজের পতাকা। একপাশে পতাকা ছাপা। অন্য পাশ সাদা। প্রতি বান্ডিলের দাম দুই টাকা কি এক টাকা, ঠিক মনে নেই।

সবুজ ভাইয়া (হোসাইন নাসরাত আলী খান, তিনি আমার কাজিনদের মধ্যে সবচাইতে বড়) আমাকে এক বান্ডিল পতাকা কিনে দিয়েছিলেন। সেই পতাকা দিয়ে আমি বারান্দা সাজিয়েছিলাম। আর সাদা কাগজে শহীদ মিনার এঁকে দেয়ালে সেঁটে দিয়েছিলাম। তখন একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব বুঝতাম কি? বুঝতাম না মনে হয়। কিন্তু মামির বাসার সাদাকালো টেলিভিশনে সেবার একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরী দেখেছিলাম। দেখেছিলাম প্রেসিডেন্ট এরশাদ শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছেন। আর শহীদ বেদিতে দাঁড়ানো মানুষ জন ফুলে ডুবু ডুবু।

এর পর অবশ্য শৈশব কৈশোরের আর কোন একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ছিলাম বলে মনে পড়েনা। তবে আমার গ্রামে অমর একুশে পালনের ঘটনাগুলো দারুণ বর্ণিল। শৈশবে আমার স্কুলপ্রীতি বিশেষ কম ছিল। তার চাইতে বেশী আগ্রহ ছিল রাখাল ছেলেদের সাথে ডাংগুলি খেলতে আর ঘুড়ি উড়াতে। এই রাখাল বন্ধুদের নিয়ে একবার বাড়ির সামনের রাস্তায় একটি মাটির শহীদ মিনার বানিয়েছিলাম। কাদামাটির সেই শহীদ মিনার দেখতে হয়েছিল অনেকটা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের মত। আমার সঙ্গীদের মধ্যে আক্কাস ছিল সবচাইতে ডানপিটে আর সব খেলায় পারদর্শী। নালা সেঁচে মাছ ধরলে দেখা যেত তার খলুইতে মাছ সবচাইতে বেশী। ডাংগুলি খেলায় যখন দল ভাগ করা হতো তখন সবাইই তাকে দলে পেতে চাইত। আক্কাস আমার শৈশবের প্রথম হিরো। তো এই আক্কাসকে আমি যখন শহীদ মিনার বানিয়ে অমর একুশে পালনের প্রস্তাব দেই, তখন তাকে একুশের গুরুত্ব বোঝাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবাই কতটা বুঝেছিল মনে নেই, কিন্তু নতুন খেলা হিসেবে দারুণ উৎরে গিয়েছিল আইডিয়াটা।

একই বন্ধুদের সাথে কলাগাছ দিয়েও শহীদ মিনার বানিয়েছিলাম একবার। মাঝখানে বড় কলাগাছ। দুই পাশে ছোট কলাগাছ। তাতে ময়দা গোলা আঠা দিয়ে ঘুড়ি বানানো রঙিন কাগজ সাঁটা।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আমরা। ছবিটি একুশে ফেব্রুয়ারি ২০১৬তে তোলা।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আমরা। ছবিটি একুশে ফেব্রুয়ারি ২০১৬তে তোলা।

আরেকটু বড় হবার পর ডাংগুলির বন্ধুদের পাশাপাশি ক্রিকেট আর ফুটবল খেলা একদল এলিট বন্ধুও জুটে যায়। সেই দলের নেতা ছিল শাহীন সাফাকাৎ বলে একজন। আমাদের বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হয়ে এসেছিল তাদের পরিবার। এইটে বা নাইনে পড়ি তখন। আমার চাইতে বয়সে কিছুটা বড় শাহীন ভাই আমার আরেকজন হিরো, তরুন বয়েস পর্যন্ত আমার জীবনে তার প্রভাব ছিল। সে ছিল হরবোলা। যেকোনো গলা কিংবা শব্দ হুবহু নকল করতে পারত। লিচু গাছের ডগায় বসে শাহীন ভাই যখন বাংলা ছায়াছবির গান গাইত, তখন নিশ্চিতভাবে প্রতিবেশী কিশোরীদের হৃৎস্পন্দন থেমে যেত। তার আঁকার হাত ছিল চমৎকার।

বাংলাদেশের মানুষ তখন গণতন্ত্র বলে নতুন একটা শব্দ চিনেছে। ওই বয়সে আমরাও কখনো কখনো রাজনীতি নিয়ে আলাপ করতাম। দুজন মহিলা কিভাবে দেশটার সব নিয়ম কানুন পাল্টে দিল, সেটা ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। শাহীন ভাই একবার ঘরের বেড়ায় লাগানো নির্বাচনী পোস্টার দেখে খালেদা জিয়ার একটা ছবি এঁকে ফেললো। ক্যালেন্ডারের পেছনের সাদা অংশে ইকোনো কলম দিয়ে আঁকা সেই খালেদা জিয়ার ছবি পরবর্তী বহু বছর তাদের তোষকের নিচে সযত্নে রাখা ছিল। খালেদা জিয়ার এত সুন্দর ছবি আমি আজো দেখিনি। শেখ হাসিনার ছবিও এঁকেছিল সে। সেই শাহীন ভাইয়ের নেতৃত্বে সেবার একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের সিদ্ধান্ত নেই আমরা পাড়ার ছেলেরা। বড়রাও ছিল আমাদের সাথে। সেবার একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের জন্য আমরা ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছিলাম। হাটবারের দিন বড় পুলের গোঁড়ায় বাঁশ ফেলে হাটযাত্রীদের কাছ থেকে এক টাকা দুটাকা করে আদায় করেছিলাম। কয়েকশো টাকা উঠেছিল সেবার। সেই টাকা দিয়ে একটা কাঠের শহীদ মিনার বানানো হয়। কাঠের উপর কালো রঙও করা হয়। কাঙালি ভোজের খিচুড়ি রান্না হয়। একটা মাইকও ভাড়া করি আমরা। তাতে বেজেছিল হিন্দি গান। সেবারের একুশে ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে আমার বিশেষ গ্লানি আছে।

আরেকটা গ্লানিময় একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের স্মৃতি আছে আমার। সেটা আনন্দ বেদনার অম্লমধুর এক স্মৃতি। ক্লাস সেভেনে পড়ি। সেবার একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটিতে পিরোজপুর বোনের বাড়িতে যাই। বোনের বড় মেয়ে তানি আমার প্রায় সমবয়েসি। পিরোজপুরে একুশে ফেব্রুয়ারিতে কি পরিমাণ মজা হয়, সেই গল্প ছোটবেলা থেকেই শুনছি। মজাটা মূলত: ফুল চুরিকে ঘিরে। জেলা শহর বলে ওখানে একটা স্থায়ী শহীদ মিনার আছে। বছর বছর শহীদ মিনার বানাতে হয় না। উনিশশো বিরানব্বই সালে সেই মজায় অংশ নেয়ার সুযোগ এসে যায়। তানির মামা হওয়ার সুবাদে তার কাজিনেরাও আমার ভাগ্নে ভাগ্নি। সমবয়েসী সেই ভাগ্নে ভাগ্নিরা এক একজন ফুলচোর শিরোমণি। পিরোজপুর বড়ই ডেঞ্জারাস শহর। শহরতলীর যে মহল্লায় আমার বোনের বাড়ি, সেই মহল্লার সবচাইতে বড় ফুলবাগান যে বাড়িতে, সেই বাড়ির লোকজন আরো ডেঞ্জারাস।

ওদের বাড়ি কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। কুকুর আছে। কিন্তু এই বাড়িটাই আমাদের বিশেষ পছন্দ। ফুল যদি চুরি করতে হয় এই বাড়িতেই করব।

কয়েক দিন ধরে রেকি চলল। ঠিক হল একুশের আগের রাতে অভিযান হবে। এর মধ্যে নান্টু খবর আনল চুরি ঠেকাতে রাতের বেলা ওই বাড়ির ছেলেরা রামদা নিয়ে পাহারা বসাচ্ছে। দলের অন্যতম সদস্য ছিল গেদু। ওর পোশাকি নাম একটা আছে বটে, কিন্তু আজ আর তা মনে নেই। তখন নতুন একধরণের কাপড় বেরিয়েছে। দারুণ নরম আর গায়ে দিয়ে খুব আরাম। বড়রা ওই কাপড়কে লিনেন বলে। হার্ট শেপের ছাপাওয়ালা কালো আর লাল রঙের লিনেন কাপড় তখন দারুণ হিট। বড়রা সবাই সেই কাপড়ের জামা বানাচ্ছে। আমাদের মতো ছোটদের অবশ্য ওরকম কাপড় দিয়ে শার্ট বানানোর সুযোগ নেই। কিন্তু গেদুর বাবা গেদুকে সেই কাপড়ের একটা শার্ট বানিয়ে দিয়েছে। নতুন একদম। একদিন কি দুদিন পড়েছে। সবাই গেদুর কাছে ওই শার্ট ধার চায়, কিন্তু গেদু বড়ই নিষ্ঠুর, কাউকেই দেয় না। কিন্তু আমি অতিথি বলে আমাকে আর না করতে পারে না।

রাতে যখন ফুল চুরির অভিযানে বেরিয়েছি, আমার গায়ে গেদুর সেই শার্ট, গেদুর গায়ে আমার টিশার্ট। তানিসহ অন্যান্য মেয়েরা অপেক্ষা করছে, আমরা এলে ফুলের ডালি সাজাবে। গভীর রাতে আমরা চলেছি চোরের দল। গামছায় সবার মুখ বাধা। নির্দিষ্ট বাড়িতে গিয়ে মনে হল সবাই ঘুমিয়ে গেছে। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম আমি আর নান্টু। বাইরে গেদুসহ অন্যরা পাহারায়। গাঁদা আর ডালিয়ার বিরাট বাগান। ফুল তোলার সময় নেই, নান্টু আর আমি গাছ উপড়াতে শুরু করলাম। কয়েকটা মোটে গাছ উপড়েছি, এমন সময় আলো জ্বলে উঠলো আর কে কে চিৎকার করে আমাদের তাড়া লাগাল কেউ। আমরাও পড়িমরি দে ছুট। আমি গাছ ফেলেই ছুটলাম। কোনমতে কাঁটাতার পেরিয়েছি বটে, কিন্তু কাঁটার খোঁচায় হাত-বুক-পিঠ ছড়ে গেছে, পা কেটে রক্ত বেরোচ্ছে। গেদুর শখের জামা ছিন্নভিন্ন। নান্টুর আনা দুটি গাঁদা গাছ থেকে বেশ কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিল।

অবশেষে ওই দিয়েই তোড়া সাজিয়েই একুশের প্রথম প্রহরের প্রভাতফেরীতে যাই ভাগ্নে ভাগ্নিদের সাথে। সে রাতে আর গেদুর দেখা পাইনি। পরদিন শার্ট ফেরত নিতে এসে খুব কান্নাকাটি করেছিল বেচারা। আমার পায়ের ইঞ্চি তিনেক লম্বা একটা কাটা দাগ আজও আছে।

Aharar-at-Bagerhat-kochuaএবার বহু বছর পর একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রামে কাটালাম। এবার তুমি আছ আমার সাথে। খুব একটা উত্তেজনা কাজ করছিল। আমার ভাস্তে-ভাস্তিরা দেখলাম ততটা উত্তেজিত নয়, যতটা আমরা থাকতাম ওদের বয়সে। আমাদের শহরে এখন একটা স্থায়ী শহীদ মিনার আছে। স্কুলগুলোতেও শহীদ মিনার স্থায়ী। আমাদের শৈশবে, পাড়ায় পাড়ায় যেমন অস্থায়ী শহীদ মিনার দেখতাম তেমনটি দেখলাম না একটাও। অবশ্য স্থায়ী মিনার হওয়ায় তার প্রয়োজনও ফুরিয়েছে। বাড়ির বাচ্চাদের কেউকেই দেখলাম না সকালে স্কুলের প্রভাতফেরীতে যেতে। এমনকি আমার কৈশোরে একুশের চাঁদাবাজিতে সামনের সারিতে ছিল আমার যে চাচাত ভাই, তার মাধ্যমিকে পড়া ছেলেরাও বাড়িতেই কাটালো। রাখি নামের পুচকে ভাগ্নিটি শুধু গেল। কিন্তু সে ফুল জোগাড় করতে পারেনি বলে গেল খালি হাতে। গ্রামের কেউই আজকাল আর শীতকালের ফুল গাছ লাগায় না। আমার মাকেও আগে দেখতাম পুকুরপাড়ে দু চারটি গাঁদা গাছ লাগাতে। এবছর সেটাও নেই। তাই তোমাকে নিয়ে আমার ছোট্ট শহরের শহীদ মিনারে যেতে হল ফুল ছাড়া। কিন্তু মনটা বড়ই তৃপ্ত, তোমার জন্মের পর প্রথম শহীদ দিবসটিতে তোমাকে অন্তত শহীদ মিনারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলাম বলে।

ইতি
তোমার বাবা
ঢাকা, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আহরার হোসেনWriter: আহরার হোসেন (8 Posts)

আহরার হোসেন, সাংবাদিক, বিবিসি বাংলা।