সুন্দরবনে আরও ৪০ জেলে অপহরণ

Fisherman-in-Sundarbansমাত্র ২০ ঘন্টার ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনে মৎস্য আহরণকারী আরও ৪০ জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী শ্যালানদী এবং আড়ুয়া বয়া এলাকা থেকে মুক্তিপনের দাবিতে বনদস্যু আব্বাস বাহিনী এসব জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

সাগর ও সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলেদেরে বরাত দিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাগেরহাট ইনফোকে জানায়, দস্যুরা ওই এলাকায় প্রায় অর্ধশত মাছধরা ট্রলারে হানা দিয়ে জেলেদের মারধর করে সোলার প্লেট, ব্যাটারী, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, হাড়িপাতিলসহ প্রায় ৫লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

এসময় দস্যুদের হামলায় বেল্লাল মীর (২৩), বাদশা হাওলাদার (৪০), হালিম হাওলাদার (৩৫) নামের তিন জেলে আহত হন।  আহত তিন জনের বাড়িও বাগেরহাটের শরণখোল উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহত ৩ অপহৃত ৪০ জেলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮ জনের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। এরা হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাদশা হাওলাদারের ছেলে ওবায়দুল (২৪), আ. মন্নান দালালের ছেলে কামাল (২৮), আফজাল হাওলাদারের ছেলে নূরু হাওলাদার (২০), ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে সাগর (১৮), রব হাওলাদারের ছেলে সজিব (১৭), আকাব্বর হাওলাদারের ছেলে ফারুক ৩৫), দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের হারেজ শরীফের ছেলে শাহীন (২০) ও ধানসাগর গ্রামের রশিদ ফরাজীর ছেলে কামাল ফরাজী (৪০)।

সূত্র জানায়, এই ৮ জনসহ অপহৃত ৪০ জেলে শরণখোলার উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী (মহাজন) বাদল ফকির, কবির তালুকদার, পান্না মেম্বার ও জাকির খানের নৌকার (ফিসিং ট্রলার) জেলে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেস্ট স্টেশন এলাকা থেকে অজ্ঞাত দস্যু বাহিনী ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদেরকে এখনও উদ্ধার করা যায় নি।

Dhanshagor-Station-Chadpi-SB

মৎস্য ব্যবসায়ী কবির তালুকদার ও জাকির খান বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, তাদের ৪০-৪৫টি নৌকা পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন থেকে পাস নিয়ে শ্যালা নদী ও আড়ুয়া বয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে বনদস্যু আব্বার বাহিনীর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দস্যু দল জেলেবহরে হানা দিয়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রত্যেক নৌকা থেকে একজন একজন করে অন্তত ৪০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় প্রতিটি ফিসিং ট্রলার থেকে সোলার প্লেট, বেটারী, মোবাইল ফোন, হাড়িপাতিলসহ প্রায় ৫লাখ টাকার মালামল নিয়ে যায় দস্যুরা। মহাজনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দস্যুদের একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় অন্য জেলেদের কাছে। তবে মহাজনরা ওই নম্বরে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধা ৭টা) যোগাযোগ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) আ. বারিক জানান, অপহরণের খবর শোনার পর ওই এলাকায় বনরক্ষীদের টহলে পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আব্দুস ছালেক বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, সকালে উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা জেলে অপহরণের কথা জানায়। পরে ওই এলাকায় ফোর্স পাঠিয়ে অপহৃতদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে ধানসাগর ফাঁড়ির পুলিশকে সার্বিক নজরদারি রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

১৩ জুন ২০১৪ :: মহিদুল ইসলাম, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসআই হকনিউজরুম এডিটর/বিআই
ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)