ব্যাংকে এক হাজার টাকার বান্ডিলে ১০০ টাকার নোট

Bagerhat-Pic-1(12-07-2015)Bank-Takaব্যাংক থেকে ব্যাংকেকে সরবরাহ করা এক হাজার টাকার এক প্যাকেট (দশ বান্ডিল, যার প্রতি বান্ডিলে থাকার কথা ১ হাজার টাকার ১শ’ নোট) নোটের ভেতর ১১৮টি একশ’ টাকার নোট নোট পাওয়া গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) সোনালী ব্যাংক (বাগেরহাট) প্রধান শাখা থেকে রূপালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখাকে সরবরাহ করা টাকায় এই গড়মিল ধরা পড়েছে।

ওই প্যাকেটে মোট ১০ লাখ টাকা থাকার কথা থাকলেও ১১৮টি এক হাজার টাকার নোটের বদলে সেখানে ১শ’ টাকার নোট থাকায় প্যাকেটটিতে ঘাটতি তৈরি হয় মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২০০ টাকা।

রূপালী ব্যাংক বলছে সোনালী ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট ক্যাশ কর্মকর্তাসহ ঐ ব্যাঙ্কে কর্মরত একটি অসাধু চক্র ঈদকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো সুরাহা করতে পারেনি।

এদিকে, দুপুরের পর থেকে বিভিন্নভাবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ব্যাংক পাড়া হয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গ্রাহকদের ভেতরে আতংক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

শহরের রাহাতের মোড়ে অবস্থিত রূপালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) আব্দুল কাদের বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, রোববার শিক্ষকদের বেতন-বোনাস প্রদানের জন্য ব্যাংকে বড় ধরণের টাকার চাহিদা তৈরি হয়। সকাল ১১টার দিকে তিনি তার শাখার জন্য পঞ্চাশ লাখ টাকা রেমিটেন্স আনতে শহরের রেলরোডে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে পঞ্চাশ লাখ টাকা (৫ প্যাকেটে ৫০ বান্ডিল) নিয়ে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নিজ ব্যাংকে ফিরে আসেন তিনি ও ব্যাংকের প্রহরী আব্দুস সাত্তার।

Bagerhat-Pic-2(12-07-2015)Bank-Takaক্যাশে টাকা বের করে গোণার সময় একটি প্যাকেটের দশটি বান্ডিলের প্রত্যেকটিতে বেশ কিছু একশ’ টাকার নোট পাওয়া যায়। গণনা করে সেখানে মোট ১১৮টি একশ’ টাকার নোট পাওয়া যায়। এতে, ওই প্যাকেটে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২০০ টাকার ঘাটতি হয়।

আব্দুল কাদের বলেন, এই ঘটনার পর তিনি শাখা ব্যবস্থাপক এস. এম. হাবিবুর রহমানকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত আবার টাকার প্যাকেটসহ সোনালী ব্যাংকে ফিরে যান এবং সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘটনাটি জানান।

এ সময় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ আবুল খায়ের মো. নূরুল ইসলাম টাকার বাণ্ডিলে দু’দফা পিন মারার দাগ থাকার কারণ দেখিয়ে ঘাটতি টাকা পূরণ বা বাণ্ডিলের টাকা বদলে দিতে অস্বীকার করেন।

রূপাপলী ব্যাংকের ঐ শাখার ক্যাশ অফিসার শাম্মী ফারহানা বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, সোনালী ব্যাংক থেকে আনা টাকার বাণ্ডিল গুনতে যেয়ে তাঁর চোখে ঐ অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। টাকার বাণ্ডিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শটিং ব্যাণ্ড ও ক্যাশ লেবেল লাগানো ছিলো।

সোনালী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, সোনালী ব্যাংক (বাগেরহাট) প্রধান শাখার ক্যাশ ইনচার্জ আবুল খায়ের মো. নূরুল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে সোনালী ব্যাংক চিতলমারী শাখায় রেমিট্যান্স প্রদান করার পর সেখানে একই ভাবে এক হাজার ও পাঁচ শত টাকার বাণ্ডিলে এক শত টাকার কিছু নোট পাওয়া যায়। এতে ঘাটতি হয়েছিলো ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।

পরে ঐ কর্মকর্তাসহ উভয় শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী যৌথভাবে নিজ পকেট থেকে ঐ অর্থ ফেরৎ দেন।

ক্যাশ ইনচার্জকে রক্ষার জন্য সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক ঘটনাটির কোন রেকর্ড রাখেননি বলে এসব ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান। এই অবস্থায় ঐ একই কর্মকর্তার সময়ে আবারও এধরণের ঘটনা ঘটায় অনেকেই ঐ ক্যাশ ইনচার্জের যোগ্যতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রূপালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক এস.এম. হাবিবুর রহমান কারও নাম উল্লেখ না করে বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি তিনি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে, সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ আবুল খাযের মো: নূরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা এসেছে। রুপালী ব্যাংকের চেক পেয়ে ওই টাকা থেকে তাদের আজ ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

জানতে চাওয়া হলে সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবুর রহমান বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, রূপালী ব্যাংককে দেয়া টাকায় রোববার একটি সমস্যা হয়েছে। এক হাজার টাকার বান্ডিলে একশ’ টাকার নোট পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তারা সকাল ১১টার দিকে টাকা নিয়ে গেছে। আমার কাছে অভিযোগ করেছে পৌনে একটার দিকে। বিষয়টি আসলে কি হয়েছে তা আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি।

ক্যাশ ইনচার্জ আবুল খাযের মো: নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাওয়া পূর্বের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই।’

সোনালী ব্যাংক জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যব্স্থাপক আশুতোষ মণ্ডল বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, এই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসেছে। সমস্যাটি কোন পর্যায়ে হয়েছে তা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সামনে সোমবার ঐ টাকা গুনে সমস্যার উৎস্য চিহ্নিত ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তার আগে আজ (রোববার) আমরা আমাদের নিজস্ব ক্যাশ গণনা করে দেখবো।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা নিয়ে কেউ চলে যাবার পর অভিযোগ করলে তা আইনানুগভাবে গ্রাহ্য নয়। তবে বিষয়টি যেহেতা আরেকটি ব্যাংকের সাথে এবং টাকার পরিমাণ বড় তাই আমরা বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধানের চেষ্টা করবো।

১২ জুলাই :: চিফ অফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
আহাদ হায়দারWriter: আহাদ হায়দার (31 Posts)