প্রচ্ছদ / খবর / রামপালে দু’দিনে ৭টি খালের বাঁধ অপসারণ

রামপালে দু’দিনে ৭টি খালের বাঁধ অপসারণ

Bad-Remove-Photo-03বাগেরহাটের রামপালে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলর সঙ্গে সংযুক্ত সরকারি খালগুলো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার অভিযানের দু’দিনে সাতটি খালের ২৩টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।

মংলা সমুদ্র বন্দর ও দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক নৌ-প্রটোকল চুক্তিভুক্ত মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ রক্ষায় বুধবার (০৫ আগস্ট) থেকে এ অভিযান শুরু করে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন।

প্রথম দিনে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬টি খালের ২১টি বাঁধ অপসারণ করা হয়।

রামপালের ইউএনও রাজিব কুমার রায় বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, অভিযানের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারও (০৬ আগস্ট) সকাল থেকে তিনি এবং জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অবৈধ বাঁধ অপসারণ শুরু হয়।

এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে উপজেলার বাঁশতলি ইউনিয়নের গুলসির খালের উপর নির্মিত দু’টি বড় বাঁধ অপসারণ করা হয়।

এ নিয়ে দু’দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উপজেলার সাতটি সরকারি নথিভুক্ত খালের ২৩টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত বছরের (২০১৪ সালের) ডিসেম্বর মাসে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে রামপাল এবং মংলার এসব রেকর্ডিয় খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের জন্য খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাগেরহাটের তৎকালীন জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ ২৩ ডিসেম্বর রামপাল সদর ইউনিয়নের ওড়াবুনিয়া খালের বাঁধ কেটে অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করেন। এ সময় রামপাল উপজেলা প্রশাসন মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের সঙ্গে সংযুক্ত ২৩টি প্রধান খাল চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু এ অভিযান কিছুদিনের মধ্যেই ঝিমিয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী অবৈধ দখলদার ও চিংড়ি চাষিরা তা আবার দখলে নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামপাল উপজেলায় দুই শতাধিক রেকর্ডিয় খাল রয়েছে। এ সব খালের অধিকাংশই অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে যার একটি বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে।

ডিসেম্বরে খাল থেকে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর স্থানীয় প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে জানতে পারে যে, অনেক সরকারি খালের জমি বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন তহসিল অফিসের মাধ্যমে উপজেলা তহসিল অফিস এ ধরনের দখল হওয়া জমির তালিকা তৈরি করেছে।

মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রায় সোয়া দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নিবিড় খনন কাজ করছে। গত জুন মাসের মধ্যে খনন শেষ হবার কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে খনন কাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য এ চ্যানেলের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৯ কোটি টাকার স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ বাঁধ দিয়ে খাল আটকে চিংড়ি চাষের কারণে খালগুলোতে জোয়ার ভাটার পানি চলাচল করতে না পারায় চ্যানেলটিতে চলমান খনন কাজে বিফলে যাবার শঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশের পর বুধবার থেকে আবারও মাঠে নামে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, মংলা বন্দরের আন্তর্জাতিক নৌরুট মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অভিযান চলছে। বাঁধ অপসারণে যারা বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগের তালিকাভুক্ত ২৩টি খাল ও তার বিভিন্ন শাখা-উপশাখা মিলে মোট ৮২টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি রেকর্ডভুক্ত এসব খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সেখানে স্থাপিত সব অবৈধ বাঁধ অপসারণ না করা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

তিনি আরো জানান, চলতি বর্ষা মৌসুম শেষে রামপালের ৮২টি সরকারি রেকর্ডিয় খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রযোজনীয় বরাদ্দ পেলে সব খালগুলোকে পূনরায় নাব্যতা ফিরে আনতে কাজ শুরু হবে। এজন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পাশে চান তারা।

০৬ আগস্ট :: সিনিয়র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই

About বাগেরহাট ইনফো নিউজ