সুন্দরবনে যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৪ দস্যু নিহত

GunFight-SundorBom-CrossFirসুন্দরবনে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথবাহিনীর সঙ্গে বনদস্যু ‘নয়ন বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধানসহ ৪ দস্যু নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী চান্দেশ্বর এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

জেলেদের বরাত দিয়ে র‌্যাব বলছে, নিহতরা হলেন- দস্যু নয়ন বাহিনীর প্রধান মো. মনির হোসেন (৩৫) ও উপ-বাহিনী প্রধান এনাম (৩০), গিয়াস উদ্দিন (২৫) ও হাসান (২০)। এদের মধ্যে বাহিনী প্রধান মনির বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার আব্দুল খালেক মাঝির ছেলে। অপর তিনজনের বাড়ি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়।

অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, পৌনে ৬শ’ রাউন্ড গুলি এবং কিছু ধারালো অস্ত্র ও দস্যুদের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮) এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ১৯ জেলেকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে নয়ন বাহিনীর দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে গত দুদিন ধরেই র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান চলছিল।

“আজ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কচিখালী চান্দেশ্বর এলাকায় অভিযানে গেলে সেখানে অবস্থানরত বনদস্যুরা গুলি ছোড়ে। যৌথ দলের সদস্যরা পাল্টা জবাব দিলে প্রায় ৪০ মিনিট গোলাগুলি চলে। পরে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে মনিরসহ চারজনের লাশ পাওয়া যায়।”

এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মনির ও তার দলবল দীর্ঘদিন ধরে দস্যুতা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মনির সুন্দরবন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত দস্যু।

তবে অভিযানের পর ঘটনাস্থল বা পাশপাশ থেকে অপহৃত কোন জেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি যৌথবাহিনী।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে- দু’টি দো’নলা বিদেশি বন্দুক, চারটি একনলা কাটা বন্দুক, চারটি একনলা বিদেশি বন্দুক, চারটি এলজি, দু’টি বিদেশি এয়ার রাইফেল, দু’টি ওয়ান শ্যুটার গান, বন্দুকের ৪১টি তাজা কার্তুজ, ১৩৫ রাউন্ড .২২ বোর রাইফেলের গুলি, ৪০৬টি এয়ার রাইফেলের গুলি, ৩৮টি বন্দুকের ফায়ারকৃত কার্তুজ (খোসা), সাতটি দেশি ধারালো রামদা, চারটি গুলি রাখার বান্ডুলিয়ার, তিনটি টর্চলাইট, নগদ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন সেট ও সিমকার্ড।

বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ আলম মিয়া বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, এ ঘটনায় র‌্যাব-৮ এর ডিএডি আমিনুল ইসলাম মামলার বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাধা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোড়ক দ্রব্য আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন। নিহত চার দস্যুদের লাশ ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেহরাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

১০ মার্চ :: সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই/আপডেট
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1301 Posts)