সুন্দরবনে আগুনের ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

SundorBon-Fire@13-04-2016সুন্দরবনের নাংলি টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন তিনটি পৃথক স্থানে বুধবার (১৩ এপ্রিল) আগুন লাগার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লোকালয়ের গ্রামবাসীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বন বিভাগ।

আগুন লাগানোর ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগে’ ৬ জনকে শনাক্ত করে রোববার (১৭ এপ্র্রিল) মামলা করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) সুলতান মাহমুদ টিটু বাদী হয়ে বন আদালতে দাখিল করেন।

গেল বছরগুলোতে সুন্দরবনে বহুবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এবারই প্রথম সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করা হলো। আসামিদের সবার বাড়ি বন-সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণ পেয়েছে বন বিভাগ। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার সুবিধার্থে বনের ওই নিচু এলাকা উপযোগী করে তুলতে আগুন লাগানো হয়েছিল।

এই ঘটনায় ১৯২৭ সালের বন আইনের ২৬ এর ১ক (গ) ধারায় শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের শাজাহান শিকারি নামের এক মৎস্যজীবী ও তাঁর পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে (বন মামলা নং ১২/ধাসা ২০১৫-১৬)।

পরে আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিয়ারুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১৩ মার্চ আগুনে বনের নাংলি ক্যাম্পের আব্দুল্লার ছিলা, পঁচাকুড়ালিয়া ও নাপিতখালি এলাকায় ৮ দশমিক ৫৫ একর বনভূমি পুড়ে যায়। এতে বনের সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে ওই এলাকায় আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় এক একর বনভূমি পুড়ে যায়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০০ সালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ গঠনের পর থেকে এই এলাকায় অন্তত ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৬০ একরেরও বেশি বনাঞ্চল পুড়ে যায়। তবে বেসরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ আরও অনেক বেশি। এর মধ্যে শুধুমাত্র চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায়ই অন্তত ১৪টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

| সুন্দরবনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ৬ জন সনাক্ত

১৭ এপ্রিল :: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1267 Posts)