বাগেরহাটে আইনজীবীদের ঝুকিঁপূর্ণ আদালত ভবন বর্জন

জীবনের ঝুকি নিয়ে আদালতের কার্যক্রম পরিচলনা করতে অসম্মতি জানিয়ে বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুকিপূর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

BagerhatNews10.06.13সোমবার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভায় সর্বসম্মত ভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। একইসঙ্গে এ ভবন নির্মাণের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত  আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করেন আইনজীবী নেতারা।

সাধারণ সভা শেষে আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ও আইনজীবী ভবনে বিকল্প ব্যবস্থায় আদালত পরিচলনা করার জন্য জেলা ও দায়রা জজের কাছে আবেদন জানানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে’।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি চাকলাদার আকরাম হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন- সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মোজাফ্ফর হোসেন, ফরিক মো. মুনছুর আলী, ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, শাহ-ই- আলম বাচ্চু, ফরিদ উদ্দিন, হেমায়েত ভুইয়া, হাওলাদার এ মান্নান, ড.একে আজাদ ফিরোজ টিপু প্রমুখ।

এ সময় তারা বলেন, ‘গত মে মাস পর্যন্ত এ ভবনে ৪১ হাজার ৯৭০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের এ ভবনে কার্যক্রম পরিচলনা করা এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। দৈনিক শত শত মানুষ এ ভবনে প্রয়োজনীয় কাজে আসেন। বিচারকরা, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীরা জীবনের ঝুকির মধ্যে পড়েছে। আমরা রানা প্লাজা ট্রাজেডির মত ঘটনার স্বীকার হতে চাইনা’।

মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের  কলাম ও বিমে ফাটল দেখা দেয়ায় বর্তমানে ভবনটি ধসের হাত থেকে বাচাঁতে গণপূর্ত বিভাগ গাছের বল্লি দিয়ে ঠেস দিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুকি নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৮টি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আইনজীবীরা জানান।

বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ছবি। ছবি: জাহিদুল ইসলাম সজল/বণিক বার্তা।

বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ছবি। ছবি: জাহিদুল ইসলাম সজল (বণিক বার্তা)

এদিকে, আইনজীবীরা বর্তমান গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিতিশ চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘ভবনে বর্তমানে যে ঠেস দেয়া হয়েছে সেখানেও অনিয়ম করা হয়েছে। দরপত্রে শাল গাছের বল্লি দিয়ে খুটি (ঠেস) ব্যবহার করার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে নিন্ম মানের লোকাল কাঠ।

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী নিতিশ চন্দ্র পাল আমাদের বলেন,“শাল গাছের বল্লি না পেয়ে লোকাল কাঠ ব্যবহার করা করা হয়েছে। তবে ২ জুন জেলা প্রশাসকের বরাবর গণপূর্ত বিভাগের পাঠানো পত্রে শাল গাছের বল্লি দিয়ে ঠেস দেয় হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ, গত ২ জুন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা ৭ দিনের মধ্যে ঝুকিপূর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সহ গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মর্সূচি পালনকরে সমস্যা সমাধানের জন্য আল্টিমেটাম দেয়।

১০-০৬-২০১৩ :: উপজেলা নিউজ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।

ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)