পূর্ণিমার জোয়ারে তলিয়ে গেছে শরণখোলা শহর, ঝুঁকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ৮ পয়েন্ট

পূর্ণিমার জোয়ারে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাটের উপকুলীয় উপজেলা শরণখোলার রায়েন্দা বাজারসহ ইউনিয়ের বেড়িবাঁধের বাইরের ঘরবাড়ি ও নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ৮টি পয়েন্ট।

ছবি: মহিদুল ইসলাম

ছবি: মহিদুল ইসলাম

যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শহর রক্ষাবাঁধ না থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারেও তলিয়ে যায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা শহরটি। গত দু’দিন পূর্ণিমার জোয়ারের পানি শহরের রাস্তাঘাটা ছাপিয়ে তুলনামূলক নিচু দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

এছাড়া জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরে বলেশ্বর পাড়ের সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলো।

এদিকে, বলেশ্বরের প্রবল ঢেউয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ৮টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

রায়েন্দা ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আকন জানান, স্লুইস গেট ও বড়ইতলা এলাকার বাঁধ জোয়ারের পানির চাপে যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।

একই ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের এমাদুল হাওলাদার জানান, তাদের গ্রামের মুন্সিবাড়ি, গাজী বাড়ি, পহলান বাড়ি, গণি খার বাড়ি ও হাওলাদার বাড়ি এলাকার বাঁধ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সম্পূর্ণ ভাঙতে আর মাত্র দেড়-দুই ফুট বাকি আছে।

ছবি: শরণখোলা থেকে মহিদুল ইসলাম।

ছবি: শরণখোলা থেকে মহিদুল ইসলাম।

উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েদ বাগেরহাট ইনফোকে বলেন, তাফালবাড়ী লঞ্চঘাট ও উত্তর সাউথখালী অংশের বেড়িবাঁধ এতোটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যে, এ এলাকার মানুষকে এখন সিডরের ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাঁধের এ পয়েন্টগুলো ভেঙে গেলে দুই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের ঘরবাড়ি, আমনের বীজতলা, মাছের ঘের, পুকুর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রায়েন্দা অফিসের সাব-এসিষ্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন বাগেরহাট ইনফোকে জানান, রয়েন্দা বাজার এলাকা তাদের প্রকল্প এলাকার বাইরে হওয়ায় এবিষয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোন সু-খবর দিতে পারছে না।

তবে ৩৫/১ পোল্ডারের ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট সম্পার্কে তিনি জানান, বর্তমানে বাঁধের ঝুঁকি পূর্ণ এলাকার গুলো সংষ্কারের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কাজ চলছে। এই সংষ্কার কাজ শেষ হলে বাঁধটি ঝুকি মুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২৩ জুলাই ২০১৩ :: ইনজামামুল হক, নিউজ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)