রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ

BagerhatPicture-05.10.13প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড: মনমোহন সিং শনিবার ভিডিও কনফারেঞ্চের মাধ্যমে রামপালের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদে বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনগন প্রতিবাদ জানিয়েছে।
গতকাল রাতেই বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষত ফেসবুক এর মাধ্যমে সবার কাছে পৌছে যায় আজ প্রধানমন্ত্রী তারর কুষ্টিয়া সফরে এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করছেন। সাথে সাথে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আসে প্রতিবাদ আর নিন্দার ঝড়।
আর এর পর থেকেই যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সে ঝোড় বাতাস বইতে শুরু করে বাগেরহাটে। রাতেই বাগেরহাটের বিভন্ন সংগঠন ফেসবুকে সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ডাকদেয় নানা কর্মসূচির।
ভারত বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের এই বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ওর্য়াল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন ধংসকারী ও ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী অসম চুক্তি উল্লেক করে এ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাগেরহাটে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পাদ রক্ষা জাতীয় কমিটি, সিপিবি, রামপাল কৃষি জমি রক্ষা কমিটি, ছাত্র ইউনিয়ন, পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা সুন্দরবন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাগেরহাট বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ।
সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমহোন সিং এর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রামপালে কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার পরপরই এর প্রতিবাদে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ বাগেরহাট শাখা।
বাগেরহাট প্রেস ক্লাব এর সামনে থেকে মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে স্থানীয় স্বাধীনতা উদ্দানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এসময় সংগঠনের জেলা শাখার আহবায়ক দীপ্ত ঘোষ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাথেন- আনিসুজ্জামান, সুমন, নাইম রায়হাল প্রমুখ।
প্রায় একই সময় দুপুর পনে ১২টায় শহরের পুরাতন কোর্ট চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বেরকরে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় বাগেরহাট। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্ব পূর্ণ মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
জাতীয় কমিটির বাগেরহাট জেলার সদস্য সচিব ফকরুল হাসান জুয়েলের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, সিপিবি বাগেরহটের সভাপতি এ্যাড. রেজাওল করিম, যুব ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলাম জাদু, ছাত্র ইউনিয়নের দৈয়দ দীপ, অলোক চক্রবর্তি, সাদী, শাওনসহ কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এসব সমাবেশে বক্তারা এই অসম চুক্তি ও সুন্দরবন ধ্বংসে আয়জন প্রতিহতের ঘোষনা দেন। তারা বলেন, সরকাল লংমার্চে জনগনের ব্যাপক অংশ গ্রহন ও সর্বস্তরের মানুষের বিরধীতার কারনে ভীত হয়ে পড়েছে। তাই পূর্ব ঘোষিত ২২ অক্টবরের পরিবর্তে আজ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারয় এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে।
এদিকে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পাদ রক্ষা কমিটি জাতীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বিকাল ৫টায় শহরে আবারও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র ইউনিয়ন বাগেরহাট জেলা সংসদ।
এদিকে ভিত্তি ফলক উদ্বোভোদনের পর এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জনমতকে অবজ্ঞা করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‌উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই ডিজিটাল উদ্বোধন কখনো দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গেরিলা কায়দায় সবাইকে সারপ্রাইজ দিয়ে শেখ হাসিনা যে বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন বাংলার জনগণ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন গ্রাস করতে রাতের আঁধারে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে চ্যালেঞ্জ করে সুন্দরবন ধ্বংসের লক্ষে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন তিনি। দেশবাসীর কাছে বিচার দিতে চাই।’

চোরাগোপ্তা উদ্বোধন; মংলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

হঠাৎ করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকে চোরাগোপ্তা উদ্বোধন বলে মন্তব্য করছেন বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মংলা শাখা ।
BagerhatPicture -2(05.10.13)শনিবার প্রধান মন্ত্রীর উদ্বোধন এর পর এবং বিকালে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মংলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
মিছিল শেষে শহরের চৌধুরীর মোড়ে সমাবেশে জাতীয় কমিটি মংলা শাখার আহ্বায়ক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূর আলম শেখ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক অসিত সরকার, জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব সুশান্ত রায়, সিপিবি নেতা নাজমুল হক, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা যুগল মল্লিক, রাহাত, অচিন্ত্য, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে ২২ অক্টোবর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই শুক্রবার রাতে এ প্রকল্পর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জনমত উপেক্ষা করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন যা জনগন মেনে নেবে না।
এসময় বক্তরা, সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি সকলকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
এছাড়া জেলার মোংলা, রামপাল, গৌরম্ভা, কাটাখালী, মোড়েলগঞ্জ, শরনখোলা ও কচুয়াতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ব্যানারে প্রগতিশীল ছাত্রজোট এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় আধাঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজোটের সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।
এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রামপালে বিদ্যৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকার দেশের জনগণের কথা বিবেচনা না করে ভারতের এজেন্টা বাস্তবয়ান করতে রামপালে বিদ্যৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পোনা করছে। সরকারের এ একমুখি সিদ্ধান্ত দেশের জনগণ রুখে দিবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকল্প উদ্বোধনের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের টাউন হল চত্ত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উদ্বোধনে পাশাপাশি বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্রকল্পের ফলক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
০৫ অক্টোবর ২০১৩ :: নিউজ ডেস্ক,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।

এসআইএইচ-নিউজ এডিটর/বিআই

ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)