আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

নিশাত তাসমিন টুম্পা

জীবিকার তাগিদে ওয়ার্কশপে কাজ করছে শিশুরা। বাগেরহাটার যাত্রাপুর বাজার এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে ছবিটি তোলর। -ইনজামামুল হক।

শিশুরা ফুলের মত। প্রতিটি শিশুই ফুলের মতো ফুটবার এবং সুন্দররূপে বিকশিত হবার দাবি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কিন্তু সম্পদের অসম বন্টন ও সামাজিক অসংগতির শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। যাদের কচি হাত হয়ে ওঠে শ্রমের হাতিয়ার।

আজ ১২ জুন, বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস। শিশু অধিকার সুরক্ষা ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসাবে বাংলাদেশে শিশু শ্রম এখনও অনেক বেশি অমানবিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। কিন্তু কেন এমনটা হয়?

শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যৎ কি কেউ দেখতে পায় না। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ভাবে শিশুকাল আঠারো বয়স পর্যন্ত। আইএলও এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত মানুষকে যেকোনো শারীরিক ও মানসিক শ্রমে নিয়োগকে শিশু শ্রম বলেছে। কিন্তু আমরা কি এইটা মানি?

বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ সীমাহীন দারিদ্র্যতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসচ্ছলতার কারণে নানা ধরনের কাজে জড়াচ্ছে শিশুরা। যে কারণে স্কুলে যেতে পারছে না অনেক শিশু। যাদের ঠাঁই হচ্ছে ছোট ছোট কলকারখানায়, পাথর ভাঙ্গা, ফেরি করে জিনিস বিক্রি, রিকশা চালানো ইত্যাদি কাজে।

‘জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১৩’ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনও না কোনও শ্রমে নিয়োজিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, এর মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশুই বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।

বেসরকারি এক হিসাবে মতে, শুধু ঢাকা শহরে ২০ লাখ বস্তিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি শিশু। শিশুরা কাজ করে সর্বত্র। কিছু শিশু দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যায় শ্রমদানের জন্য।

তাদের কচি হাতের উপার্জন হয় তো বাবা-মায়ের দারিদ্র্যতা লাঘব করলে না, তবে কষ্ট কিছুটা লাঘব করে। রোদ বৃষ্টির মধ্যে পরিশ্রম করলেও তাদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের মতো খাদ্য, বিনোদন, স্নেহাদর দেওয়া হয়না। কিন্তু কেনন??তাদের কর্মস্থল গুলো খুবই জটিল যেটা তাদের প্রাপ্য নয়। কলকারখানা, গার্মেন্টস, গ্যারেজ, দোকানপাট, সব জায়গায়ই তাদের বসবাস। আবার অনেক শিশু কাজ করে মানুষের বাসায়। এইভাবেই কেটে যাচ্ছে তাদের দিনকাল। বছরের পর বছর তারা কষ্ট করে বেঁচে আছে। আবার এই শিশুদেরকে পাচার করা হয়ে থাকে। দরিদ্র বাবা মাকে লোভ দেখিয়ে অনেক শিশুকে কিনে নিয়ে যায় নরপশুরা।কন্যা শিশুকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। এদের কি কোন ভাবেই বাঁচানো যায় না????

শিশুরা তো নিষ্পাপ। তাদের দিয়ে শ্রম আদায় মানবতাবিরোধী কাজ। শুধু বাংলাদেশেই নয় যেকোন দেশে এর পরিণতি ভয়াবহ। যে বয়য়সে শিশুদের পড়ালেখা করার কথা, খেলাধুলা করার কথা সে বয়সে তারা কাজ করছে। আমাদের কাছে এর থেকে লজ্জা জনক কথা আর নাই।

শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে। সরকারকে শিশু নির্যাতন আইন প্রয়োগে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুশ্রম বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সাথে সবাইকে যুক্ত করতে হবে। সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এগুলো না করলে দেশে শিশুশ্রম বন্ধ হবে না।

‘উৎপাদন থেকে পণ্য ভোগ, শিশু শ্রম বন্ধ হোক’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টি দেশে আজ পালিত হচ্ছে শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।

আমাদের সবাইকে তাই উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের জন্য কল্যাণকর পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

লেখক: শিক্ষার্থী।

Neshat Tasmin TumpaWriter: Neshat Tasmin Tumpa (5 Posts)