সুন্দরবনে শুটকি আহরণ মৌসুম: সাগরে ছুটছে জেলেরা

Dubla-Zelaনান জটিলতায় প্রায় এক মাস অপেক্ষার পর বঙ্গোপসাগর উপকুলের পূর্ব সুন্দরবনে শুটকি আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে।

বন বিভাগের অনুমতি (পাশ-পার্মিট) নিয়ে ৭ হাজারেরও বেশি জেলে, ডিপো মালিক ও বহরদ্দার বৃহস্পতিবার থেকে বঙ্গোপসার তীরে সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লীর উদ্যেশে রওনা হয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ জানিয়েছে, কিছু জটিলতার কারণে প্রায় এক মাস বিলম্বের পর বুধবার রাতে দুবলা যাওয়ার অনুমতি পত্র প্রদান শুরু করে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মংলা উপজেলার পশুর ও শরণখোলার বলেশ্বর নদী দিয়ে কোষ্টগার্ড ও বনরক্ষীদেও নিরাপদ পাহারায় সাগর যাত্রা করেছে।

এরমধ্য দিয়ে অক্টোবরে শুটকী আহরন মৌসুমের শুরুতে সুন্দরবনের দুবলার উদ্যেশে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজার-হাজার জেলের অবনর্ণীয় র্দূদশার অবসান ঘটেছে। শুটকী প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অস্থায়ী পল্লী র্নিমানর উদ্যেশে যাত্রা করা জেলেরা প্রায় এক মাস ধরে বলেশ্বর ও পশুর নদীতে অপেক্ষায় ছিলেন।

shutki-in-Sundorbon-pic-03সুন্দরবন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের র্নিদেশে সুন্দরবন সুরক্ষায় বনের সব ধরনের সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে বন মন্ত্রণালয়। এরই প্রেক্ষাপটে অক্টোবরের শুরুতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চরে শুটকী প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অস্থায়ী জেলে পল্লী র্নিমান আটকে যায়। হটাৎ করেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসায় উপকূল ও সুন্দরবন সন্নিহিত মংলা- শরণখোলার নদীতে এক মাস ধরে আটকে থাকতে হয় হাজার-হাজার জেলেদের।

এর প্রেক্ষিতে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজার-হাজার হতদরিদ্র এসব জেলেদের অবনর্ণীয়  দূর্দশা লাঘপে এগিয়ে আসে বন বিভাগ।

বুধবার বিকালে বনের সকল আইন মেলে অতিরুক্ত ৭টি শর্ত সাপেক্ষে জেলে-বহরদারদের নিয়ন্ত্রিত ভাবে দুবলার জেলে পল্লীতে যাবার অনুমতি আসে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. ইউনুস আলীর কাছ থেকে। খুলনার বিভাগীয় বন সংরক্ষক ওই অনুমতি পত্র গ্রহনের পর বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ শর্ত সাপেক্ষে জেলেদের পাস প্রদান শুরু করে।

তবে, বিগগত বছরগুলোতে সুন্দরবনের দবলার ১৪টি চরে অস্থায়ী শুটকী পল্লী র্নিমাণের অনুমতি মিললেও এবার কেবল মাত্র ৫টি চলে জেলেরা মাছ আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ করনের অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ।

Dubla-Zela-05-11-2015চরগুলো হলো- দুবলার মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, মাঝের কিল্লা, নারকেল বাড়িয়া ও শ্যালারচর।

একই সাথে গত মৌসুমের ১৩ জন বহদারের স্থলে ১১জন, ১১৫ জন ডিপো মালিক স্থলে মাত্র ৩৫ জনে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এবার ৯৮৫টি জেলে ঘরের স্থলে ৫০০টি অস্থায়ী ঘর নির্মানের অনুমতি মিলেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ( ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, কেবল মাত্র রান্নার জন্য শুকনো জ্বালানী ব্যাতিত অন্য কোন প্রকার বনজ সম্পদ না ব্যাবহারের শর্তে এবার জেলে-বহনদাদের দুবলা যাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বনহীন নিদৃষ্ট ৫টি চরে ডিপোসহ ৫৩৫টি অস্থায়ী ঘর তৈরীর অনুমতি পাওয়া জেলেরা কেবল মাত্র সমুদ্র ও সমুদ্র উপক’লে মাছ ধরতে পারবে। কোন অবস্থায় তার বনের অভ্যন্তরের নদ-নদী বা খালে মাছ শিকার করতে পারবেনা।

আর শুটকি পরিবহনের জন্য এবার নিয়ন্ত্রিত ভাবে কেবল পশুর ও বলেশ্বর নদী ব্যবহারের করা যাবে। এসব বিষয়ে বন বিভাগরে কঠোর মনিটরিং থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, শুটটি আহরণ মৌসুম শুরুর প্রেক্ষিতে দস্যুতা দমন ও জেলেদের নিরাপত্তায় বনবিভাগের পাশাপাশি র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে।

গেল শুটটি মৌসুমে দুবলার ১৪টি চরের জেলে পল্লীতে জেলেরা ২৭ হাজার ৭’শ ১২ কুইন্টাল শুটকি মাছ উৎপাদান করেন। এ খান থেকে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছিলো।

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর সুন্দরবনের দুবলার জেলে পল্লীতে শুটকি মৌসুম শেষ হবে। তবে জেলে-বহদ্দারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় আরও এক মাস বাড়ানো হতে পারে বলে বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

০৫ নভেম্বর :: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1300 Posts)