সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দস্যু নিহত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

সুন্দরবনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। র‌্যাব বলছে, নিহত ব্যক্তি বনদস্যু ‘শামসু বাহিনী’র সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুখপাড়ার চর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভাষ্য, নিহত যুবকের নাম বিল্লাল মীর ওরফে কানা বিল্লাল (৩০)। সে সুন্দরবনের ‘বনদস্যু’ শামসু বাহিনীর সদস্য। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এরআগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের শেলা নদীর মৃগমারী খাল এলাকায় র‌্যাব-৬ এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ‘শামসু বাহিনী’র প্রধান শামসু ওরফে কোপা শামসু নিহত হয়।

র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আনোয়ার উজ জামান বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, দস্যু দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাবের একটি দল জেলেদের নিয়ে সুন্দরবনের দুবলারচরে যাচ্ছিল ছিলো। পথে শরণখোলা রেঞ্জের সুখপাড়ার চর এলাকায় দস্যুরা বনের ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় আত্মরক্ষায় র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় আধাঘন্টা ধরা চলা ওই গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে দস্যুরা বনের গহীণে পালিয়ে যায়।

পরে আশপাশে থাকা জেলেদের নিয়ে ওই এলাকায় তল্লাশি করে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ এবং ৫টি আগ্নে আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে দুটি সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, একটি ডাবল ব্যারেল বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি শটগান রয়েছে। এছাড়া সেখান থেকে ব্যবহৃত রামদা, সোলার প্যানেরসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আনোয়ার উজ জামানের বলেন, উদ্ধারকৃত মরদেহটি বনদস্যু শামসু বাহিনীর সদস্য বিল্লাল মীরের বলে জেলেরা সনাক্ত করেছে। জেলেদের কাছে সে ‘কানা বিল্লাল’ নামে পরিচিত।

বিল্লাল এরআগে এক সময় সুন্দরবনের দস্যু রাজু বাহিনীর সদস্য ছিলো। রাজু পালিয়ে ভারত চলে গেলে সে অন্য দস্যু বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়। সবশেষ সে (বিল্লাল) শামসু বাহিনীতে যোগ দিয়ে পূর্ব সুন্দরবনে আসা জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

র‌্যাব-৮-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, নিহত বিল্লালের মরদেহ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং দস্যুদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যাব-৮ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবুল হাসান বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাধা এবং অস্ত্র আইনে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

এইচ/এসআই/বিআই/০২ মার্চ, ২০১৭/আপডেট

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1304 Posts)