কালীদাস বড়াল হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট কালিদাস বড়াল হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যদন্ড দিয়েছে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এডভোকেট কালিদাস বড়াল

এডভোকেট কালিদাস বড়াল

এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও নয়জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

বুধবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ এস. এম. সোলায়মান এই রায় দেন।

রায়ে মৃত্যদন্ড প্রাপ্ত হলেন, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর দুই ছেলে মো. আলমগীর সিদ্দিকী ও নাছির সিদ্দিকী, বড়বাড়িয়া গ্রামের মো. আতিয়ার রহমান দফাদারের ছেলে সাঈদুল ইসলাম ওরফে সাঈদ ফকির, ঘোলা গ্রামের আব্দুল হক কাজীর ছেলে সাইফুর রহমান ওরফে বাবলু কাজী এবং কলাতলা গ্রামের সোনা মিঞা সরদারের ছেলে স্বপন।

যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন চিতলমারীর রহমতপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে শওকত সিদ্দিকী, বাগেরহাট সদরের চরগাঁ গ্রামের হাশেম মোল্লার ছেলে বাবলু মোল্লা ও সুলতানপুর গ্রামের  আব্দুল হাই এর ছেলে মানিক।

দণ্ডিত আটজনের মধ্যে আলমগীর সিদ্দিকী ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছেন বলে বাগেরহাট ইনফোকে জানান আদালতের অতিরিক্ত পিপি সীতারাণী দেবনাথ।

এদিকে সবার মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কালিদাসে বড়ালের স্বজনরা। কালিদাস বড়ালের স্ত্রী হ্যাপি বড়াল তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ার বাগেরহাট ইনফোকে বলেন, প্রভাবশালীদের চাপে আদালত এ মামলা থেকে প্রকৃত অপরাধীদের মধ্যে অন্তত ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালের ২০ আগস্ট সকাল পৌনে ৮টায় বাগেরহাটের সাধনার মোড়ে কালিদাস বড়ালকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা এ হত্যাকান্ডের পেছনে থেকে মদদ দিয়েছে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে খালাস দেয়া হলো। এসময় রায়কে আংশিক হিসাবে অভিহিত করেন তিনি।

এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই তা বলতে পারেছি না। তবে পরিবারের সবার সাথে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব।

উল্লেখ, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, ও বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. কালিদাস বড়ালকে গুলি করে হত্যা করে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের স্ত্রী হ্যাপি বড়াল পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

বিচার চলাকালে অছিকার রহমান নামে এক আসামির স্বভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মামুন ও জুয়েল শিকদার এবং গণপিটুনীতে কবির ডাকুয়া ও তুষার মোল্লা নামে চার আসামির মৃত্যু হয়।

০৫-০৬-২০১৩ :: নিউজ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।

ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)