বাগদা চিংড়ি চাষে নার্সারী তৈরীর কৌশল

বাগদা চিংড়ি চাষে নার্সারী ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যেখানে ঘের প্রস্তুতকালীন সময়ে বা তার আগে নার্সারী প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।

Bagda-Chingri-Pic003বাগদা চিংড়ি চাষে সংগৃহীত চিংড়ী পিএল সরাসরি ঘেরে ছাড়লে অনেক ক্ষেত্রে চিংড়ি পোনার মৃত্যুহার বেশী হয়ে থাকে। পরিবেশের তারতম্য, পিএল এর ক্লেশ/পীড়ন, পরিবহনজনিত ধকল, খাপ খাওয়ানো ঠিকমতো না হওয়া ইত্যাদি কারনে সাধারনতঃ চিংড়ি পিএল মারা যায়।

এজন্য সংগৃহীত পিএল নার্সারীতে ২০-২৫ দিন লালন পালন করে ঘেরে ছাড়া হলে পিএল এর মৃত্যুহার কমে যায় এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যেসব কারনে বাগদা চিংড়ির নার্সারী করা প্রয়োজন তা হল-
 ঘেরের পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
 পিএল এর সঠিক পরিচর্যা এবং খাবার দেয়া সহজ হয়।
 পিএল বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পায়।
 পিএল সঠিক ভাবে বৃদ্ধি পায় ও সবল হয়ে উঠে।
 মজুদ ঘেরে সঠিক মাত্রায় জুভেনাইল মজুদ করা যায়।
 কম লবনাক্ত এলাকার ক্ষেত্রে নার্সারীতে লবন প্রয়োগ করে লবনের ঘনত্ব বাড়িয়ে পিএল মজুদ করা যায় (বাগেরহাটে কম লবনাক্ত এলাকায় ব্যাবহার হচ্ছে)।

বাগদা চিংড়ি নার্সারীর স্থান ও আকার:
 ঘেরের এক কোনায় পুকুরের মত বাঁধ (ভেড়ী) দিয়ে বা ঘেরের বাইরে ঘেরের সাথে লাগানো অন্য কোন পুকুরে অথবা ঘেরের মধ্যে ক্যানেল/নালা করে নার্সারী তৈরী করা যেতে পারে।
 নার্সারীর আকার আয়তকার হলে ভাল হয়।
 নার্সারীর আয়তন মূল ঘেরের দশ ভাগের একভাগ হবে এবং গভীরতা হবে ৩.৫ থেকে ৪ ফুট (বড় ঘেরের ক্ষেত্রে একাধিক নার্সারি হতে পারে)।

Bagda-Chingri-Pic004বাগদা চিংড়ি নার্সারী প্রস্তুতকরণ ও পিএল পরিচর্যার ধাপ সমুহ:
১। নার্সারীর পাড় মেরামত।
২। পানি ঢোকানোর পূর্বে শতক প্রতি ১ কেজি পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
৩। নার্সারীতে পানি থাকলে ৯.১ মাত্রার ৩০-৩৫ গ্রাম /শতাংশ হারে রোটেনন প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অবাঞ্চিত মাছ অপসারণ করতে হবে।
৪। নার্সারীর তলার পচাঁ কালো কাদা অপসারণ।
৫। জৈব নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ঘন ফাঁসের নীল নেট ৬ ইঞ্চি মাটির নিচে গভীর করে ঢুকিয়ে দিয়ে নিরাপত্তামূলক বেড়া নির্মান করা আবশ্যক।
৬। পরিস্কার ও দুষন মুক্ত উৎস থেকে সুক্ষ্ম নেটের মধ্য দিয়ে ছেকে পানি সংগ্রহ করে ৩ দিন থিতিয়ে প্রতি এক ফুট পানির জন্য শতাংশে ১ কেজি হারে ব্লিচিং পাউডার দিতে হবে। ব্লিচিং প্রয়োগের ৩-৪দিন পর শতাংশ প্রতি ২৫০ গ্রাম হারে কৃষি চুন প্রয়োগ করলে ভাল হয়।
৭। নার্সারীতে পিএল এর জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরীর জন্য পিএল মজুদের ৪-৫ দিন পূর্বে শতাংশ প্রতি সরিষার খৈল-১০০ গ্রাম, চিটা গুড়-১০০ গ্রাম, অটো পালিশ-১০০ গ্রাম ও ইষ্ট পাউডার-১ চা চামস এর দ্রবন প্রয়োগ করতে হবে।
৮। চিংড়ীর আশ্রয়স্থল তৈরীর জন্য শতাংশ প্রতি ২-৩টি শুকনো কঞ্চির আটি বা ১-২টি শুকনো তালপাতা দিতে হবে।
৯। নার্সারীতে প্রতি শতাংশে ১০০০ টি পিসিআর পরিক্ষীত পিএল মজুদ করতে হবে।
১০। নার্সারীতে চিংড়ী পিএল মজুদ করার পর ২০-২৫ দিন নার্সিং করা হয়। এসময়ে প্রতি ১০০০ পিএল এর জন্য প্রথম ৫দিন ১০-২০ গ্রাম খাবার ও পরবর্তী প্রতি ৫ দিন পরপর আরো ১০ গ্রাম করে খাবার বর্ধিত করে নার্সারীতে প্রয়োগ করতে হবে।
১১। নার্সারী হতে মজুদ ঘেরে প্রতি শতাংশে ৪০-৫০টি হারে জুভেনাইল মজুদ করতে হবে।

ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ওর্য়াল্ডফিস কর্তৃক বাস্থবায়নাধীন এ আইন প্রকল্প ২০১২ সাল হতে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাগদা চিংড়ী চাষের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি (এমটিটি) তে চাষীদেরকে উৎসাহিত করছে। বাগদা চিংড়ী চাষীদের মধ্যে এই প্রযুক্তির গ্রহনযোগ্যতা দিন দিন বেড়ে চলছে।

লেখকঃ
তোফায়েল হোসেন ও এবিএম শাহিদুল হক
টেকনিক্যাল স্পেশালিষ্ট, এআইএন প্রকল্প, ওর্য়াল্ডফিস – বাংলাদেশ।
মোবাইল : ০১৭১৪-০২১২২৫

Writer: Bagerhat Info Blog (51 Posts)