মিষ্টি ফল খেজুর

খেজুর শুধু একটি খাবারই নয়, এর পুষ্টিমান ও অন্যান্য গুণাগুণ রোজাদার ও অন্যদের শরীরের অনেক চাহিদা যেমন পূরণ করে, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি উপশমেও বেশ কার্যকর একটি ফল।

খেজুর এক ধরনের তালজাতীয় (Palmae) শাখাবিহীন বৃক্ষ।
Date-Palm(Khajur)বাংলা নাম- খেজুর
ইংরেজি নাম- Date Palm
সংস্কৃত নাম- खर्जूरम्
বৈজ্ঞানিক নাম- ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা (Phoenix dactylifera)।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সুমিষ্ট ফল হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় অনেক বছর পূর্ব থেকেই এর চাষাবাদ হয়ে আসছে। এ গাছটি প্রধানতঃ মরু এলাকায় ভাল জন্মে তবে কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশেও খেজুরের চাষ হচ্ছে বানিজ্যিক ভাবে। তাছাড়া প্রাচীন কাল থেকেই এ অঞ্চলে আর এক ধারনের খেজুর দেখা যায়। যা দেশি খেজুর নামে পরিচিত।

ইফতারিতে খেজুর গুরুত্ব –

খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত।এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
(১) হযরত সালমান বিন আমের (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেহ ইফতার করে সে যেন খেজুর (খুরমা) দ্বারা ইফতার করে। কেননা ইহাতে বরকত ও কল্যাণ রহিয়াছে। আর খেজুর যদি না পাওয়া যায় তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে । কেননা উহা হইল পবিএকারী।। (আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি, ও ইবনে মাজাহ)

(২) হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন। নবী করীম (সাঃ) মাগরীবের নামাজের পূর্বেই কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করিতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকিত তবে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করিতেন। যদি শুকনা খজুর ও না থাকিত; তবে কয়েক কোষ পানি পান করিতেন।। (তিরমিযি)

হাদীস অনুযায় বুঝা যায় ইফতারের জন্য খুরমা খেজুর এবং পানির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সব কিছু খাবে কিন্তু প্রথমে এই দুইটি দিয়ে শুরু করার উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হাদীস অনুযায় আমল করে রমজানের বরকত হাসীল করার তাওফিক দিন। আমিন।।

খেজুরে আছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক এসিড, আমিষ, শর্করাসহ একাধিক খাদ্যমান।

চলুন এক নজরে জেনে নেই খেজুরের বিভিন্ন গুণাবলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-

ক্যানসার প্রতিরোধঃ-
খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। এক গবেষণায় দেখা যায়, খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যাঁরা নিয়মিত খেজুর খান, তাঁদের বেলায় ক্যানসারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে।

মুটিয়ে যাওয়া রোধেঃ-
মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। এই কয়েকটি খেজুরই কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে দেয় ঠিকই।

হাড় গঠনেঃ-
ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে।

দুর্বল হূৎপিণ্ডঃ-
খেজুর হূৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই যাঁদের হূৎপিণ্ড দুর্বল, খেজুর হতে পারে তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ।

অন্ত্রের গোলযোগঃ-
অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে খেজুর অনেক সহায়ক এবং খেজুর অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেঃ-
খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর সহায়ক। তাই চোখের সমস্যায় ভোগা রোগীরা সচ্ছন্দে খেতে পারেন খেজুর।

কোষ্ঠকাঠিন্যঃ-
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

সংক্রমণঃ-
যকৃতের সংক্রমণে খেজুর উপকারী। এ ছাড়া গলা ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি এবং ঠান্ডায় খেজুর উপকারী।

বিষক্রিয়া রোধেঃ-
খেজুর অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়ায় বেশ উপকারী। ভেজানো খেজুর খেলে বিষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।

শিশুদের রোগবালাই প্রতিরোধে:-
শিশুদের জন্যও খেজুর খুব উপকারী। খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ করে। তাই শুধু রমজান মাসে কেন, সারাটা বছর জুরেই খাদ্য তালিকায় থাকুক খেজুর।

মায়ের বুকের দুধঃ-
খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার। এই খেজুর মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
এছাড়া খেজুর খেলে অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে। এবং প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।

যে কোনো ফলের চেয়ে খেজুরের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই শুধু রমজান নয় সারা বছর পরিবারের সবার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমরা এই ফলটিকে রাখতে পারি।

তথ্য সূত্র- ইন্টারনেট।

Inzamamul HaqueWriter: Inzamamul Haque (160 Posts)