ধানী ও চারা পোনা ব্যবস্থাপনা

লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা: লালন পুকুরে দেড় থেক দুই মাস বা তার অধিক সময় নিয়ে ধানী পোনা লালন- পালন করে ৪-৬ ইঞ্চি বা তার অধিক সাইজের পোনা তৈরী করা হয়। লালন পুকুর ব্যবস্থাপনাকে তিন ধাপে ভাগ করা যায়।

১.ধানী পোনা মজুদ পূর্বব্যবস্থাপনা ২. ধানী পোনা মজুদ কালীন ব্যবস্থাপনা ৩.ধানী পোনা মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা

১.ধানী পোনা মজুদ পূর্বব্যবস্থাপনা: ধানী পোনা মজুদ পূর্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:

ক) আগাছা ও পাড় পরিস্কার খ) পুকুরের পাড় মেরামত ও তলা সংস্কার গ) জলজ আগাছা দমন ঘ) রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরন ঙ) পুকুর প্রস্ত্ততকালীন চুন প্রয়োগ চ) পানি প্রবেশ ছ) পুকুর প্রস্ত্ততকালীন সার প্রয়োগ জ)প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা ঝ)পানির উপযুক্ততা পরীক্ষা

ক) আগাছা ও পাড় পরিস্কার: নার্সারি পুকুর পাড়ের আগাছা পরিস্কার করতে হবে এতে

-পুকুরে বেশী রোদ পড়ে
– পোনার প্রাকৃতিক খাদ্য বেশী তৈরী হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়
– মাঘ-ফাল্গুন- চৈত্র মাসে এ কাজটি করতে হবে।

খ) পুকুরের পাড় মেরামত ও তলা সংস্কার –
– প্রতি বছর লালর পুকুর শুকানো ভাল
– পুকুর শুকানোর পর ভাঙ্গা পাড় উচু,মজবুদ,এবং ছিদ্রবিহীন ভাবে মেরামত করতে হবে
– অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলে অসমান তলদেশ সমান করতে হবে
– শুকানোর পর তলায় চাষ দিতে হবে
– পুকুর পাড়ের ঢাল ১:২ অনুপাতে হতে হবে

পুকুরের পাড় ও তলা সংস্কারের উপকারিতাঃ –
– মাটি চাষ দিলে মাটির বাধন আলগা হয় তাতে সূর্যের আলো মাটির গভীরে প্রবেশ করার ফলে রোগ জীবানু মারা যায় এবং মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে
-পুকুরের মাটি ও পানির গুনাগুন ভাল থাকে
– তলার বিষাক্ত গ্যাস দূর হয়
– পোনা মাছ আহরনের সময় জাল টানা সহজ হয়
– পুকুরের পাড় মেরামত ও উচু হলে রেণুপোনার চাষ এবং পরিচর্যা সহজ হয়
– বাইরের দূষিত পানি ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না
– বাইরের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত প্রজাতীর মাছ পুকুরে ঢুকতে পারবে না।

গ) জলজ আগাছা দমনঃ পুকুরে ভাসমান , ডুবন্ত নানা জাতের আগাছা ও শেওলা তুলে ফেলতে হবে কারন:
– মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে
– মাটি ও পানির পুষ্টিকর উপাদান ব্যবহারের কারনে পুকুরে মাছের খাদ্য তৈরীতে বাধার সৃষ্টি হয়
– লালন পুকুরে অতিরিক্ত তন্ত্ত জাতীয় শেওলা থাকলে পোনা আহরনের সময় তন্ত্ত জাতীয় শেওলায় আটকে পোনা মারা যায়
– কায়িক শ্রম দ্বারা এ আগাছা দূর করা যায়
– প্রতি শতাংশে ৮-১০ গ্রাম তুতে(কপার সালফেট)পানিতে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিলে ৩-৪ দিনের মধ্যে সমস্ত শেওলা মারা যায়।

-প্রতি শতাংশে প্রতি  ফুট গভীরতার জন্য ১০  মি:লি সী উইড( Sea-Weed)ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া যায়।

জলজ আগাছ নিয়ন্ত্রনের উপকারিতাঃ
– পানিতে সরাসরি আলো পড়ে ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়
– পোনা মাছের জন্য ক্ষতিকারক জীবানু ও প্রাণী ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে না
– পোনা মাছের চলাচল সহজ হয় এবং জাল টানতে সুবিধা হয়
– খাদ্য প্রয়োগে সুবিধা হয়
– পোনা উৎপাদন বেশী হয়।

ঘ) রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনঃ রাক্ষুসে মাছ চাষকৃত মাছের  পোনা খেয়ে ফেলে, অচাষকৃত মাছ চাষকৃত মাছের  পোনার খাবার খেয়ে ফেলে তাই লালন পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ যেমন-শোল,টাকি, গজার, বোয়াল,ফলি,চান্দা পুটি, মলা,চেলা,শিং মাগুর , কৈ সহ যে কোনধরনের রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করতে হবে। মাছের  পোনা ছাড়ার আগেই পুকুর শুকিয়ে ,বার বার জাল টেনে অথবা টি সীড কেক প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরনের উপকারিতাঃ
– পোনা বাচার হার বেশী
– প্রাকৃতিক ও সম্পূরক খাদ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়
– মাছের রোগ বালাই হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ পুকুর থেকে দূরীকরনের উপায় –
পুকুর শুকিয়েঃ লালন পুকুর হতে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূরীকরণের সর্বোত্তম উপায় হলো শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচে শুকিয়ে ফেলা। পুকুর শুকানোর পর তলায় প্রয়োজনে চাষ দেওয়া এবং কড়া রোদে বেশ কিছুদিন (১৫ দিন) পুকুর ফেলে রাখা।এ কাজটি ফাল্গুন-চৈত্র মাসে করলে খরচ ও সময়দুইই কম লাগে।

উপকারিতা:রাক্ষুষে ও অচাষকৃত মাছ দূর হয়, তলার কাদার বিষাক্ততা দূর হয়, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

বার বার জালটেনেঃ পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ঘন ফাসের জাল বার বার টেনে রাক্ষুসে ও অচাষকৃত মাছ দূর করা যায়।

টিসীড কেক ( চা বীজের খৈল) প্রয়োগ: মাছের রক্ত কণিকাকে ভেঙ্গে দিয়ে মাছের মৃত্যু ঘটায়।চা বীজের খৈল জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। মাত্রা-প্রতি শতাংশে ৫০০-৭০০ গ্রাম ৩-৫ ফুট পানির জন্য।টি সীড কেক সকাল বেলায় রেৌদ্রউজ্জল আবহাওয়ায় প্রেয়াগ করেত হেব। বিষক্রিয়ার মেয়াদ ৭ দিন।

ঙ) পুকুর প্রস্তÍতকালীন চুন প্রয়োগঃ পুকুরের তলদেশের মাটি সূর্যালোকে শুকিয়ে গেলে পুকুরের তরদেশে লাঙ্গল দিয়ে ভাল ভাবে চাষ করে শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে পোড়াচুন পাড় সহ সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

এ প্রক্রিয়ায় পুকুরের তলদেশের পরজীবি প্রাণী মারা যায় এবং পুকুরের পানি কিছুটা খারযুক্ত হয়। এছাড়াও মাটি থেকে পুষ্টিকর পদার্থ মুক্ত হয়ে পোনা মাছের খাবার উৎপাদনে সহায়তা করে। সন্ধা রাতে মাটির চাড়ি বা ড্রামে তিন গুন পানিতে চুন ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে রোদ উঠারপর আরো ও পানি মিশিয়ে পানি ভর্তি পুকুরের ক্ষেত্রে ঢাল সহ সমস্ত পুকুরে সমান ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগের ৩ -৫ দিন পরে পানি সরবরাহ করতে হবে।

প্রতি তিন মাস পরপর চুন প্রয়োগ করলে পুকুরের স্বাস্থ্য কর অবস্থা বজায় থাকে। এক্ষেত্রে চুনের মাত্রা হবে প্রাথমিক মাত্রার ১/৪ ভাগ থেকে ১/২ ভাগ।

ভাল চুন শনাক্তবরনের উপায়ঃ একটি কাচের গ্লাসে কিছু পরিমান পানি নিয়ে তাতে এক টুকরা চুন দিয়ে পরীক্ষা করা যায়। ভাল চুন বিক্রিয়া করে পানিতে বুদবুদ ও তাপ সৃষ্টি করে চুন কেনার সময় বাজারে বসে চায়ের কাপে বা গ্লাসে চুন ও পানি নিয়ে ভাল চুন সনাক্ত করা যায়।

চুনের উপকারিতা: পানির ঘোলাত্ব দূর করে, মাটি ও পানির অম্লত্ব দূর করে পিএইট এর মান বৃদ্ধি করে,সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরীর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে, ক্ষতিকর গ্যাস ও জীবাণু ধ্বংস করে, পানিতে পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধি করে,মাছের রোগবালাই কম হয়,ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে, মাটি থেকে পুষ্টিকর পদার্থ মুক্ত হয়।

চ) পানি প্রবেশঃ পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের ৩-৫ দিন পর পুকুরে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানি উত্তোলোনের ক্ষেত্রে গভীর নলকুপের বা শ্যালো ইঞ্জিনের দ্বারা মাটির নীচের পানি প্রবেশ করানো ভাল। যদি পুকুর বা অন্য ডোবা থেকে পানি প্রবেশ করানো হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ফিল্টার নেটদিয়ে পানি ছেঁকে প্রবেশ করাতে হবে যেন পুকুরে কোন রাক্ষুষে ও অচাষকৃত মাছ ঢুকতে না পারে।

ছ) পুকুর প্রস্তÍত কালীন সার প্রয়োগঃ পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মানোর জন্য জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের ফলে পুকুরে অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীব কনা জন্ম নেয় যা খেয়ে রেণু জীবন ধারন করে। এসব উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় জীবকণাগুলোকে বলা হয়প্ল্যাংক্টন। শুকনো পুকুরে প্রয়োজনীয় জৈব সার সমস্ত পুকুরে ছিটানোর পর চাষ দিয়ে তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। সার হিসাবে খৈলও ব্যবহার করা যেতে পারে। শতাংশ প্রতি আধা কেজি (০.৫০কেজি) খৈল রটিফার(প্রাণীকণা ) উৎপাদনে সহায়ক। অজৈব সার পুকুরে পানি ভরাটের পরএকত্রে গুলে পানিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।

পুকুর প্রস্তÍত কালীন চুন প্রয়োগের ২-৩ দিন পর এবং পোনা মজুদের কমপক্ষে ৪-৫ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। সূর্যোলোকিত সকাল ৯-১০ টার সময় সার প্রয়োগ করা ভাল। এতে পানিতে পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হয়। মাছের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত করে।

সার প্রয়োগের মাত্রা ও প্রযোগ পদ্ধতিঃ

সারের নাম সারের ধরন প্রয়োগ মাত্রা (প্রতিশতাংশে) প্রয়োগ পদ্ধতি
জৈব সার কম্পোষ্ট ৬-১০ কেজি শুকনো পুকুরঃ প্রয়োজনীয় পরিমান জৈব সার সমান ভাবে পুকুরের তলায় ছিটিয়ে দেয়ারপর চাষ দিয়ে ভাল ভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে
অজৈব সার ইউরিয়া

টিএসপি

এমওপি

১০০-১৫০ গ্রাম

১০০-১৫০ গ্রাম

২৫-৫০ গ্রাম

পানি ভর্তি পুকুরঃ পরিমান মতো কম্পোষ্ট পানিতে গুলিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। পানিতেটিএসপি রাতে ভিজিয়ে পরের দিন সূর্যোলোকিত সকালে (৯ -১০ টা) ইউরিয়ার সাথে মিশিয়েপুকুরের অগভীর অংশে ভালভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।

দ্রুত প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য খৈল ৩০০-৪০০ গ্রাম/শতাংশ এবং ইউরিয়া ৮০-১০০ গ্রাম/শতাংশে প্রয়োগ করতে হবে। (খৈল ও ইউরিয়া একটি পাত্রে তিন গুন পানির সাথে ১২-২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে সূর্যের আলোতে সকাল১০-১১ টায় সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

সার প্রোয়োগের বিবেচ্য বিষয়: আকাশ মেঘলা থাকলে কিম্বা বৃষ্টি থাকলে সার দেওয়া উচিত নয়, পানির বর্ণ অতিরিক্ত সবুজ থাকলে সার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

জ) প্রাকৃতিক খাদ্য ও প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষাঃ পেনা মজুদের পূর্বেই পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। লালন পুকুরের পানির রং থাকবে লালচে সবুজ বা বাদামী সবুজ। পুকুরে সার দেয়ার ৩-৪ দিনের মধ্যেই মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরী হয়। সার দেয়ার ৪-৫ দিনপর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। কারন পোনা মাছের বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান প্রাকৃতিক খাদ্যে আসে।

প্রাকৃতিক খাদ্যঃ সার দিলে পুকুরে উদ্ভিদ ও প্রাণী কণা জন্ম নেয়। পানির বর্ণ দেখে বোঝা যায়। যেমন প্রাকৃতিক খাদ্যযুক্ত পানির বর্ন হালকা সবুজ, বাদামি সবুজ, বা হালকা বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে।
প্রাকৃতিক খাদ্য ২ ধরনেরঃ ক) উদ্ভিদ কণা খ) প্রাণী কণা

ঝ) পানির উপযুক্ততা পরীক্ষাঃ পানিতে বিষক্রিয়া থাকলে পোনা মারা যাবে। তাই লালন পুকুরে ছাড়ার ১-২ দিন আগে পুকুরের পানিতে একটি হাপা টাঙ্গিয়ে  ১০-১৫ টি পোনা ছেড়ে ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত রেখে দেখতে হবে পোনাগুলো মারা য়ায় কি না? যদি পোনা মারা না যায় তবে বুঝতে হবে যে,পুকুরের পানিতে বিষাক্ততা নেই। পোনা মারা গেলে বুঝতে হবে যে পানি বিষাক্ত। এ অবস্থায় আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

২. ধানী পোনা মজুদ কালীন ব্যবস্থাপনাঃ
ক)প্রজাতি নির্বচনঃ লালন পুকুরে এক প্রজাতির রেণু ব্যবহার করা উত্তম।  ভাল মানের পোনা উৎপাদন এবং মুনাফা অর্জনকে সামনে রেখে প্রজাতি নির্বচনের ক্ষেত্রে অনেক গুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন নির্বাচিত  পোনার এলাকাগত চাহিদা পুকুরের ধরন ও আকার , চাষের ধরন,চাষির অভিজ্ঞতা , চাষির আর্থিক সংগতি ইত্যাদি।
উল্লেখিত বিষয় সমূহ বিবেচরা করে আমাদের দেশে সাধারনত রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প,বিগহেড কার্প, রাজ পুটি/থাই পুটি, কমন কার্প, পাঙ্গাস, থাইকৈ, ভিয়েতনামী কৈ,শিং, মাগুর ও মনোসেকস তেলাপিয়ার পোনা নার্সারিতে চাষ করা হয়ে থাকে।

খ)ধানী পোনার মজুদ ঘনত্ব: দুইটি লালন পুকুরের ব্যবস্থা থাকেল প্রথম পুকুরে প্রতি শতাংশে ধানী পোনার মজুদ ঘনত্ব হবে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টি এবং ঐ পুকুরে ৩০ দিন পালনের পর দ্বিতীয় পুকুরে স্থানান্তনর করতে হবে। দ্বিতীয় পুকুরে ছোট পোনার মজুদ ঘনত্ব হবে শতাংশ প্রতি ১,০০০(এক হাজার) থেকে ১,২০০ টি। যদি একটি পুকুরে পোনা লালন-পালন করা হয় তাহলে প্রতি শতাংশে  পোনার মজুদ ঘনত্ব হবে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টি। এই পুকুরে ধানী পোনা মজুদ করে ৩-৫ ইঞ্চি বা ততোধিক আকার পর্যন্ত তৈরী করা হয়ে থাকে। এ এক্ষেত্রে সময় লাগবে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস বা ততোধিক সময়।

গ)সবল ধানী ও দুর্বলধানী সনাক্তকরন:

ক্রমিক নং পর্যবেক্ষনের বিষয় সবল ধানী দুর্বল ধানী
০১ চলাফেরা সন্তরনশীল স্থির,
০২ দেহের রং উজ্জ্বল ফ্যাকাশে বা সাদাটে
০৩ পাত্রে হাত দিলে দ্রুত সরে যায় ধীরে ধীরে সরে য়ায়
০৪ স্রোতের বিপরীতে চলতে সক্ষম চলতে অক্ষম

ঘ) ধানী পোনা শোধন: ১০ লিটার পানির মধ্যে ২০০ গ্রাম খাবার লবন বা এক চা চামচ পটাশ গুলিয়ে তার মধ্যে তিন কেজি পরিমান পোনা আধা মিনিট গোসল করিয়ে নিতে হবে, একই পানি দ্বারা ৫ বার পোনা শোধন করা যাবে।

ঙ)ধানী পোনা অভ্যস্তকরন ও পুকুরে মজুদ: পুকুরে ছাড়ার আগে ধানী পোনাকে নতুন পরিবেশের সাথে সহনশীল করে নিলে মৃত্যু হার অনেকাংশে রোধ করা যায়। পোনার পাত্রটি ১৫-২০ মিনিট পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে রাখতে হবে। তার পর ১৫ মিনিট ধরে পুকুর এবং পাত্রের পানি অদল বদল করে নিতে হবে। পাত্র এবং পুকুরের পানির তাপমাত্রা সমান হলে পাত্রটি কাতকরে ধরে স্রোত দিলে সুস্থসবল পোনা ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যাবে।

ধানী ছাড়ার সময়: ঠান্ডা আবহাওয়ায় সকাল অথবা বিকালে পোনা ছাড়া উত্তম।প্রখর রোদ, বৃষ্টি অথবা নিম্নচাপের দিনে পুকুরে পোনা ছাড়া উচিত না।

৩. ধানী পোনা মজুদ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা:

ক)পোনা বেচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ:পোনা ছাড়ার পর থেকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে , পুকুরে পোনা মারা যায কি না? মারা গেলে পানি থেক উঠিয়ে ফেলতে হবে।

খ) পুকুরে হররা পানা: পোনার পুকুরে মাসে কমপক্ষে ২ বার হররা টানতে হবে। ফলে পুকুরের তলায় জমে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস দূরীভূত হয় এবং তলায় আটকে থাকা জৈব পুষ্টি পানিতে মুক্ত হয়ে পানির উবৃরতা বৃদ্ধি করে।

ধানী পোনার খাদ্য ব্যবস্থাপনা: লালন ব্যবস্থাপনায় ধানী পোনা মজুদের পর থেকে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে। পোনা মজুদের  এক দিন পর থেকে সকাল বিকাল দুইবার প্রয়ো্গ করতে হবে।প্রতিদিন প্রতি এক লক্ষ পোনার জন্য নিম্ন তালিকা মোতাবেক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।

পোনার বয়স খাদ্যের পরিমান উপকরন অনুপাত
১ম ১০ দিন ৮-১০ কেজি সরিষার খৈল,অটোপালিশ ও নার্সারি ফিড ২:১:১
২য় ১০দিন ১০-১১ কেজি সরিষার খৈল,অটোপালিশ ও নার্সারি ফিড ২:১:১
৩য় ১০ দিন ১১-১২ কেজি সরিষার খৈল,অটোপালিশ ও নার্সারি ফিড ২:১:১

কার্প জাতীয় মাছের পোনার দৈহিক ওজনের সাথে খাদ্য প্রয়োগের হার : পোনার ওজন ১-৫ গ্রাম হলে দৈনিক ১০-১২% হারে , পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে দৈনিক ৫-৭% হারে,পোনার ওজন ১০-৫০ গ্রাম হলে দৈনিক ৪-৫% হারে,পোনার ওজন ৫০-১০০ গ্রাম হলে দৈনিক ৩-৪% হারে,পোনার ওজন ১০০ গ্রাম এর বেশী  হলে দৈনিক ৩% হারে সম্পূরক খাবার দিতে হবে।

মো: মোস্তাফিজুর রহমান
প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, ইউএসএআইডি
অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম এন্ড নিউট্রিশন(এআইএন) প্রকল্প
ওয়ার্ল্ডফিশ-বাংলাদেশ।
+৮৮ ০১৭১৮-৭১৪৬৪৬

Writer: abir01 (1 Posts)