জুয়া ঘরের নাম মংলা রিপোটার্স ক্লাব !

Mongla-Reportrs-Clabবলতে গেলে প্রশাসনের একদম চোখের সামনে। একটি ভাঙ্গা বিল্ডিং এর দোতালায়। তাতে আবার দরজা জানালা নাই বল্লেই চলে। কোনমতে টিনের ছাওনী দেওয়া। আর সেখানে মংলা রিপোটার্স ক্লাবের নাম সাটিয়ে দিনরাত কয়েকজন মিলে জুয়া খেলছেন আর মদ গিলছেন। এমন দৃশ্য দেখে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের কয়েক জন প্রশ্ন করে উঠেন “ওদের (জুয়াড়িদের) কী সরকার লাইসেন্স দিয়ে মদ জুয়া খেলার অনুমতি দিয়েছে”?

সরেজমিনে বুধবার গিয়ে এমন দৃশ্য পাওয়া গেছে।

মংলার ট্রেডার্স মসজিদ রোডে একটি বিল্ডিং এর দোতালায় চলছে জুয়া, মদ ও গাজার আসর। আর তাতে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে মংলা রিপোটার্স ক্লাবের সাইবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এ জুয়া ঘরের প্রত্যক্ষ মদদ দাতা মংলার কথিত এক সাংবাদিক। নাম আবুল হাসান ওরফে পিচ্চি হাসান ।

তিনি এটি (কক্ষটি) জুয়াড়িদের কাছে উপভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর ভবনটির গায়ে মংলা রিপোটার্স ক্লাব সাটিয়েছেন ঢাল হিসাবে। এর ফলে প্রশাসন কিছু বলে না বা দেখেও দেখে না এমন মন্তব্য স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার এক চা বিক্রেতা বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন- গত ৬ মাস ধরে আবুল হাসান এখানে জুয়ার আসর বসিয়ে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছেন। ওই চা বিক্রেতার  ভাষায় আবুল হাসান সমাজ-নমাজ (নামাজ) বোঝেন না। রোজার  মাসে জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারচ্ছে। কয়েক হাত দূরে মসজিদ থাকলেও তোয়াক্কা করছেন না কিছুই।

এ ব্যাপারে আবুল হাসানের বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

এদিকে একের পর এক অপকর্মে কারণে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফুঁসে উঠছেন মংলার সাংবাদিক সমাজও।

রিপোটার্স ক্লাবের নামে জুয়ার ব্যবসা, অন্য সাংবাদিকের নাম বলে ফোনে চাঁদা চাওয়া, সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে  একের পর এক বিয়ে আর যৌতুকের দাবী পূরণ না হলে তালাক, সুন্দরবনের বন রক্ষীদের কাছে চাঁদা দাবি, জাল স্বাক্ষর করে প্রেসক্লাবের সদস্য লাভের অপচেষ্টা, সবশেষ পৌর মেয়রেরর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সরকারি চাউল আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা মংলার সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে।

বুধবার সকাল ১১টায় মংলা প্রেসক্লবে আয়োজিক এক সভায় এ উদ্ধেগের কথা জানান সাংবাদিকরা। সভায় স্থানীয় সকল ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় একুশে টেলিভিশনের মংলা প্রতিনিধি আবুল হাসানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় ।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্য গ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের গণ স্বাক্ষরিত কপি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

এর আগে প্রথম স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি এবং দেশ বরেণ্য বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের টাকা চুরি অপরাধে আবুল হাসান চাকরী চ্যুত হন টেলিভিশন থেকে।

এ ব্যাপারে মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন বাগেরহাট ইনফোকে বলেন, ব্যাপারটা আমি অবগত নই। যদি এমন হয় তাহলে এটি ন্যাকার জনক। অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৩ জুলাই ২০১৪ :: এমএম ফিরোজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসআই হকনিউজরুম এডিটর/বিআই
এমএম ফিরোজWriter: এমএম ফিরোজ (19 Posts)