‘পান্তা-ইলিশ’ খেয়ে অর্ধশতাধিক অসুস্থ

ওই খাবার খেয়ে পেটব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা সমস্যা নিয়ে শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পর্যন্ত ২৯ জন কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা বাড়িতে চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিচ্ছেন।

কচুয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় লেডিস ক্লাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।  অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত শিক্ষার্থীসহ তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা সদরের স্থানীয় একটি রেঁস্তোরা থেকে অতিথিদের জন্য খাবার আনা হয়।

বর্ষবরণের ওই অনুষ্ঠানে খাদ্য তালিকায় ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, ডাল, আলু ও চিংড়ি ভর্তা এবং বেগুন ভাজি।

অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিশুর অভিভাবক কামরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (পহেলা বৈশাখ) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অতিথিরা এসব খাবার খান। ওই খাবার তৈরি করা হয় বুধবার গভীর রাত থেকে।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন একাধিক ব্যক্তি বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পেটব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। ওই অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা খাবারের বিষক্রিয়ার এ ঘটনা ঘটতে পারে।

অসুস্থ হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ২৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন, স্থানীয় কলেজ শিক্ষক বনি আমিন (৪৪), মাধ্যমিক শিক্ষক শিরিনা খানম (৪৬), প্রাথমিক শিক্ষক কমল কৃষ্ণ (৪০), সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম (৪২), ইউএনও কার্যালয়ের এমএলএসএস মহিদুল ইসলাম দিদার (৪৫), প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার মেয়ে সাঈদা (৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৩), বর্ণালী হালদার (১৪), আল আমিন (২১), আল আমিন (৪৫), নূপুর (৪০), মিনা (৩৫), শামীমা (১৫), জোবেদা (৭৫), জেসিকা (১০), ফাহমিদা (৭), মফিজুল ইসলাম (৩৫), তানিম শিকদার (১০), মিম (১৩), মর্জিনা (৩৫), সৈকত (১৩), শাহীনুর (১২), শামিমা (১৫) ও সাঈদা (৬)।

এছাড়া স্থানীয় সাংবাদ কর্মী নিয়াজ ইকবাল দম্পতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্ত্রী, কচুয়া থানা ওসি এবং চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২০-২৫ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক তাপস দাস ও কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শমসের আলী জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মাহাবুবুর রশীদ জানান, ঘটনা তদন্তে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা দেবেন্দ্রনাথ সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাশ্বতী রাণী ও কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস দাস।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফুড পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হয়ে রাত ১২টা থেকে অসুস্থরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আসা রোগীদের শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

১৫ এপ্রিল :: স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1326 Posts)