করমজলে ‘বাটাগুর বাসকার’ ৪৫ ছানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো বিলুপ্তপ্রায় কাইট্যা কচ্ছপ বা ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির ৪৫টি কচ্ছপের ছানা জন্ম নিয়েছে।

৮ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে প্রজনন কেন্দ্রে ডিম ফুটে এই ছানাগুলো জন্ম নেয়। কচ্ছপ ছানাগুলো কেন্দ্রের সুরক্ষিত চৌবাচ্চায় ছাড়া হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বাটাগুর বাসকা (Batagur baska) প্রজাতির কচ্ছপ দেখা যেত। স্থানীয়ভাবে কাইট্যা কচ্ছপ নামে পরিচিত বাটাগুর প্রজাতির এই কচ্ছপগুলো বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।

বাংলাদেশে ২০১০ সালে ভিয়েনা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের আর্থিক সহায়তায় বন বিভাগ, আমেরিকান টারটেল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স ও বেসরকারি সংস্থা ক্যারিনামের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বংশবিস্তারের প্রথম প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২ ও ২০১৩ সালে এই কেন্দ্রে কৃত্রিমভাবে এই প্রজাতির কচ্ছপের ৮৪টি বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।

২০১৪ সালে অন্য তিনটি সংস্থার সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বন বিভাগ করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এর দ্বিতীয় প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে এবং জেলেদের জালে আটক বড় ৮টি ও ছোট ২০টি মিলিয়ে মোট ২৮টি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

করমজল কেন্দ্রে বর্তমানে একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাটাগুর বাসকার প্রজনন, বংশ বিস্তার, খাদ্যাভ্যাস, গতিবিধি নির্ণয়সহ নানা বিষয়ে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো জন্ম নেওয়া বিলুপ্তপ্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির কচ্ছপের ছানা। ১৩ মে তোলা ছবি l প্রথম আলোকরমজল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবীর বলেন, গত ১৯ মার্চ প্রজনন কেন্দ্রের ২য় বারের মত একটি মাদি ‘বাটাগুর বাসকা’ ৩২টি ডিম পাড়ে। যার দুই মাস ৩ দিনের ব্যবধানে ডিমগুলো থেকে ১৭টি বাচ্ছা ফুটেঠে। বাকি ১৫টি ডিম থেকে আগামী ১-২ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা হবে।

এরআগে গত ৩ মার্চ ৩১টি ডিম পাড়ে আরেকটি কচ্ছপ। যার থেকে গত ৮ মে ৪টি, ৯ মে ১৯টি, ১০ মে ৩টি, ১৩ মে ২টিসহ মোট ২৮টি ডিম থেকে ২৮টি ছানা জন্ম নেয়। বাকি তিনটি ডিমের ২টি নষ্ট হয় এবং একটি অনুর্বর ছিল।

দুই ধাপে ডিম ফুটে জন্ম নেওয়া ৪৫টি কচ্ছপ ছানা কেন্দ্রের সুরক্ষিত নিবিড় পর্যবেক্ষ চৌবাচ্চায় ছাড়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, দেশি ভাষায় পরিচিত কাইট্যা কচ্ছপ বা কেটো কচ্ছপের বৈজ্ঞানিক নাম বাটাগুর বাসকা। ইংরেজিতে এটিকে নর্দার্ন রিভার টেরাপিন বলে।

একটি পূর্ণবয়স্ক বাটাগুর বাসকা ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ওজন হয় ১৮ থেকে ২০ কেজি। গড় আয়ু ৪০ বছর। এটি মিঠা ও লোনাপানি দুই জায়গাতেই থাকতে পারে। এই ক্ষমতা অন্য কোনো কচ্ছপের নেই। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কচ্ছপের খোলসের রং বাদামি থেকে সবুজ। আর নারী কচ্ছপের খোলসের রং জলপাই-ধূসর।

নারী কচ্ছপ বছরে ৫০ থেকে ৬০টি ডিম দেয়।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করা আন্তার্জাতিক সংগঠন আইইউসিএন মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় এই কচ্ছপের নাম রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এই ৪৫টি বাচ্চাসহ বর্তমানে এই কেন্দ্রে বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের সংখ্যা ১৬৮।

এইচ//এসআই/বিআই/২২ মে, ২০১৭

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1300 Posts)