মোরেলগঞ্জ ও মোরেল সাহেবদের নীলকুঠি বা কুঠিবাড়ি

সরদার ইনজামামুল হক । বাগেরহাট ইনফো ডটকম

মোরেল সাহেবদের নীলকুঠি বা কুঠীবাড়ি

মোরেল সাহেবদের নীলকুঠি বা কুঠিবাড়ি

বাগেরহাটের সর্ববৃহৎ এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা মোরেলগঞ্জ। ইংরেজ মোরেল পরিবারের নামে নামকরণ হয় এ উপজেলার।

জানা যায়, ইংরেজ শাসনের সুত্রপাতের পর ১৭৮১ সালে ইংরেজ সরকার কর্তিক এখানে প্রথম শাসন কেন্দ্রর স্থাপিত হয় এবং এর ম্যাজিষ্টেট ও কালেক্টর হন বিদেশি সিভিলিয়ন মি: টিলম্যান হেঙ্কেল। এরপর যশোর জেলার প্রতিষ্ঠা ঘটে।

বাগেরহাট তখন মহকুমাও হয়নি। বৃহত্তর খুলনা জেলা তখন ছিল যশোর জেলার অন্তর্গত। আর এর বড় অংশ জুড়ে ছিল সুন্দরবন। সে সময় হেঙ্কেল সাহেব প্রথম সুন্দরবন আবাদের প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু জমিদারদের সাথে বিবাদের জেরে তা আর বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনা।

মোরেল সাহেবদের নীলকুঠি বা কুঠীবাড়ি। মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।

মোরেল সাহেবদের নীলকুঠি বা কুঠিবাড়ি। মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট। ছবি: সানজানা আলম।

১৮২৮ সালে সুন্দরবনের সীমানা নির্ধারনের জন্য Regulation III of 1828 আইন পাস হয়। এ আইনের আওতায় ১৮৩০ সালে সুন্দরবন জরিজ করা হয়। সে সময় মি: ডামপায়ার সুন্দরবন এলাকা জরিপ করে একে কয়েকট লটে (Lot) বিভক্ত করেন এবং পরে তা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।

১৮৪৯ সালে মোরেল পরিবারের মিসেস মোরেল পানগুচি ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় সুন্দরবন বন্দোবস্ত (ইজারা) নিয়ে বন আবাদ করে বসতি গড়ে নীল চাষ শুরু করেন। তারপর সেখানে তারা বহু শ্রমিক নিয়োগ করে আবাদ কৃত জমির পরিমান বাড়াতে থাকে। মোড়েল ভাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বৈষয়িক ও কর্মী ছিলেন রবার্ট মোরেল। তার উপর দায়িত্ব ছিল সমস্ত জমিদারদের দেখাশুনা ও পরিচালনা কারা।

তিনি সুন্দরবন আবাদের জন্য বরিশাল থেকে প্রচুর শ্রমিক আনেন। জানা যায়, এসব আবাদির শ্রমিকের অনেকেই সেখানে স্থায়ী ভাবে থেকে যায়। এছাড়া পারবর্তিতে দূরদুরন্ত থেকেও প্রজারা এখানে আসতে থাকে। এতে মোড়েল সাহেবদের আয় ক্রমস বাড়তে থাকে। তারা বসবাস ও নিজেদের শাসন পরিচালনার জন্য তখন বিরাট পাকা ভবন নির্মান করেন। এই ভবনটির অস্তিত্ব এখনও আছে যাকে স্থানীয় ভাবে কুঠীবাড়ি বলা হয়।

তারা সেথানে বিরাট নারকেল সুপারির বাগনে করেন এবং বাজার বসান। ক্রমে মোরেলদের  নামানুসারে এ বাজারে নাম হয়ে যায় মোরেলগঞ্জ। পরে ইংরেজ সরকার কর্তিক এ বাজারকে বন্দর হিসাবে ঘোষনা করা হয়। সে সময় বিভিন্ন পন্য নিয়ে বিদেশি জাহাজ এসে ভিড়ত মোরেলগঞ্জ বন্দরে।  পরে চর পড়ে যাওয়ায় ধিরে ধিরে এ বন্ধর বন্দ হয়ে যায়।

নীল, নীলকর নিয়ে এই মোরেল পরিবারের সাথে মিশে আছে অনেক কাহিনী। কৃষক বিদ্রোহের এক রক্তাক্ত অধ্যায়, যার নায়ক ছিলেন কৃষক রহিমুল্লাহ (১৮৬১ সাল)। মোরেল পরিবারের সাথে প্রবল যুদ্ধে বীরত্বের সাথে সাথে নিহত হন রহিমুল্লাহ।

Morrel-Khuthi-2পরে অবশ্য এই রহিমুল্লাহ হত্যার জের ধরে মোরেলগঞ্জ থেকে মোরেল পরিবারের শাসন গোটাতে হয়েছিল ১৮৭৮ সালে। কন্তু শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও রয়ে গেছে ‘কুঠিবাড়ি’ নামে পরিচিত তাদের নীলকুঠি।

বর্তমান মোরেলগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত এই কুঠিবাড়ি বা নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ দেখতে চাইলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে।

মোরেল কুঠীবাড়ির মেঝের নিচে তৈরি শুড়ঙ্গ পথ।

মোরেল কুঠীবাড়ির মেঝের নিচে তৈরি শুড়ঙ্গ পথ।

Support Context:
  • যশোর খুলনার ইতিহাস- সতীশ চন্দ্র মিত্র
  • বাগেরহাটের ইতিহাস- ড. শেখ গউস মিয়া
আরো ছবি-
মোরেল কুঠীবাড়ির মেঝের নিচে তৈরি শুড়ঙ্গ পথ। স্থানীয় অনেকের মতে এখানে নাকি ঘোড়া দাঁড়িয়ে থাকতে বা দৌড়ে যেতে পারত পারতো এক সময়..। ছবি : জাহিদ রহমান।

মোরেল কুঠীবাড়ির মেঝের নিচে তৈরি শুড়ঙ্গ পথ। স্থানীয় অনেকের মতে এখানে নাকি ঘোড়া দাঁড়িয়ে থাকতে বা দৌড়ে যেতে পারত পারতো এক সময়..। ছবি : জাহিদ রহমান।

কুঠি বাড়ীর কোনও এক কামরা (রুম)। ছবি : জাহিদ রহমান।

কুঠি বাড়ীর কোনও এক কামরা (রুম)। ছবি : জাহিদ রহমান।

Inzamamul HaqueWriter: Inzamamul Haque (160 Posts)