প্রেমিক কুমির !

Crocodile-in-Sundorbonসুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের পুকুরে বসবাসকারী রোমিও ও সতীন জুলিয়েটের প্রতিহিংসার থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে সাবমেরিন নামের একটি মাদি কুমির। কয়েকমাস আগে প্রকাশিত একটি জাতীয় পত্রিকার খবর এটি।

সুন্দরবনের এ প্রজনন কেন্দ্রের কুমিরের ভালোবাস, হিংসা ও আক্রোশ এমন খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে বহুবার। তবে কুমিরের এ ভালোবাসা এখন আর শুধু এ প্রজনন কেন্দ্রে মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকছে না।

এখন থেকে নদীতে অবমুক্ত হওয়ার পরও থাকছে। শুধু কি তাই এই প্রেমে বাধা বা বিচ্ছেদ আসলে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এমন কথার প্রমাণ দিচ্ছেন এখানকার জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালরা।

তারা জানাচ্ছেন, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মরা পশুর টহল ফাঁড়ি এলাকায় গত বুধবার ফিরোজ শেখ (৪২) নামের এক মৌয়ালকে নৌকা থেকে টেনে গিলে খেতে চেয়েছিল একটি পুরুষ কুমির।

এসময় টানা এক ঘণ্টা ধরে কুমিরের সাথে তার যুদ্ধ হয়। এক পর্যায়ে কুমিরের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে সে অন্য মৌয়ালদের দ্বারা উদ্ধার হয়। সে সুন্দরবনের ঢাংমারী গ্রামের নূর মহম্মদ শেখের ছেলে । বর্তমানে সে মংলার পঞ্চাশ শয্যা ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে।

মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে কুমিরের খাবারের অভাব নেই। তাই এখানকার কুমিরগুলি সাধারণত মানুষের ওপর তাদের টার্গেট থাকে না বল্লেই চলে। কিন্তু এই পুরুষ কুমিরটা প্রায়ই মানুষকে টার্গেট করছে।

এর আগে এ কুমিরটা মংলার বাঁশতলা গ্রামের আব্দুল হাকিম নামের একজনকে গিলে খেয়েছে। মংলার সোনাইলতলা গ্রামের নূর ইসলামের এক পা নিয়ে গেছে।

সুন্দরবনে পর্যটকদের নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত এমভি শোভন ট্রলারের চালক মো. সম্রাট বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, তিনি কিছু দিন আগে ওই কুমিরের সাথে একটি মেয়ে কুমির সব সময় থাকতে দেখেছেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওই পুরুষ কুমিরটা একা।

ওই কুমিরের উৎপাতের কথা স্বীকার করে মংলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা ও সুন্দবনের বাওয়ালী হাফিজ (৫৫) বাগেরহাট ইনফোকে বলেন, বনিবনা বা চোরা শিকারীদের কবলে পড়ে ওই পুরুষ কুমিরটি হয়তো এখন সঙ্গী হারা। তার এই অবস্থার জন্য সে কোনো না কোনভাবে মানুষকে দায়ী করছে। তাই মানুষের ওপর তার এতো ক্ষোভ হতে পারে।

কুমিরটিকে পুরুষ নিশ্চিত করে সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ইনচার্জ ও বন্যপ্রাণী কুমির বিশেষজ্ঞ আব্দুর রব বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, “মানুষের মত ওদেরও প্রেম ভালোবাসা আছে। এটা ওদের নিয়মে আসে এবং ওদের নিয়মে চলে।

“১৯৮৫ সালের জরিপ অনুযায়ী ৮৫টির মত কুমির রয়েছে। যা সুন্দরবনে এলাকাভাগ করে থাকছে” বলে জানান তিনি।

২৮ এপ্রিল ২০১৪ :: এমএম ফিরোজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসআই হকনিউজরুম এডিটর/বিআই
বাগেরহাট ইনফো ডেস্কWriter: বাগেরহাট ইনফো ডেস্ক (1853 Posts)