স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করলেন পুলিশ সদস্য

বাগেরহাটে কাওসার শেখ (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রী মিনা বগমকে (৩৪) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার বেমরতা বাজার এলাকায় কাওসার শেখের বাড়ি থেকে পুলিশ তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন কাওসার।

নিহত মিনা বেগমের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে পরিকল্পিতভাবে মিনাকে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কাওসার শেখ গাপালগঞ্জ পুলিশ লাইনে কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বেমরতা গ্রামের এন্তাজ উদ্দিন শেখের ছেলে।

অভিযুক্ত ঐ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণ ও মাদক কেনা-বেচার অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জহিরুল ইসলাম ও বাগেরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউল আলম।

নিহত মিনা বেগম একই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের মেয়ে। কাওসার-মিনা দম্পতির সাদিয়া আক্তার কনা (১৩) ফাতেমা আক্তার বন্যা (১০) নামে দুটি কন্যাশিশু রয়েছে। সাদিয়া এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

নিহত মিনার ভাই কামরুজ্জামান বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমার বোনের সাথে কাওসারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কাওসার চাপ সৃষ্টি করে আমাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছে। সে মাঝে মাঝেই মিনাকে মারপিট করতো। আমরা মিনাকে বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু দুটি বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে তা করা হয়নি। তাহলে হয়তো আজ এই পরিণতি দেখতে হতো না।’

Bagerhat-District-Mapতিনি দাবি করেন, কাওসার একজন মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতা। তাকে সুপথে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেও পারা যায়নি।

বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জহিরুল ইসলাম মিঠু বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, কাওসার শেখ নামে ওই পুলিশ সদস্য পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতের কোন এক সময়ে ঘুমন্ত স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন এবং স্ত্রীর মৃতদেহ ও দুই ঘুমন্ত কন্যাকে ঘরে রেখে ঘর তালা দিয়ে পালিয়ে যান। সকালে মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে বাইরে থেকে ঘর আটকানো এবং মায়ের মৃতদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে ডাক চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন এবং পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া আক্তার কনা দুপুরে বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বাবা কাওসার শেখ কর্মস্থল গোপালগঞ্জের উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে বের হন। কিছু পরে তিনি আবার বাড়ি ফিরে আসেন এবং তার ফোনকল রিসিভ না করার অভিযোগে মিনা বেগমকে মারধর করেন। রাতে তারা খাবার খেয়ে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।

ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বের হতে যেয়ে দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখে। তখন মায়ের ঘরে যান এবং বিছানায় মুখে বালিশ চাপা অবস্থায় মিনা বেগমকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। দুই বোনের ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহামান বলেন, কাওসার নামে এক পুরিশ সদস্য বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ওই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাগেরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউল আলম বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, পুলিশ কনস্টবল কাওসারের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রীর অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১৩ নভেম্বর :: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1301 Posts)