সমুদ্রগামী জেলেরা পেলেন লাইফ জ্যাকেট

Bagerhat-Pic-1(02-02-2016)সমুদ্রগামী মৎস্য আহরণকারী বাগেরহাটের ৩৯২ জন জেলেকে জীবণ রক্ষাকারী (লাইফ) জ্যাকেট প্রদান করেছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাটের চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রে ‘সেভ ফিশানমেন, সেফ ফিশারিজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে জেলেদের মাঝে এ জীবণ রক্ষাকারী সরঞ্জামা প্রদান করা হয়।

ট্রপিকাল ডলফিন রিসার্চ ফাইন্ডেশনের (টিডিআরএফ) আবেদনে সাড়া দিয়ে ইন্টারন্যাশানাল মেরিটাইম রেসকিউ ফেডারেশন (আইএমআরএফ) উপকূলের জেলেদের জন্য এই জ্যাকেট প্রদান করেছে।

চিংড়ি গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খান কামাল উদ্দিন আজমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম।

অনুষ্ঠানে অনান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কমান্ডার এ টি এম রেজাউল হাসান, টিডিআরএফে’র প্রতিনিধি মো. মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে মৎস্য ক্ষেত্রের অবস্থান ২য়। দেশের মানুষের আমিষের দৈনিক চাহিদার শতকরা ৬৩ ভাগই অাসে মাছ থেকে। দেশের ৭১০ কিলোমিটার বিস্তৃর্ণ উপকূলের প্রায় এক লখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় প্রতক্ষভাবে মৎস্য আহরণের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার জেলে।

প্রতিনিয়ত জীবণের ঝুঁকি নিয়ে উপকূল থেকে ২০০ নটিকাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃণ জলরাশিতে জীবণক্ষারী সরঞ্জামাদি ছাড়াই জীবিকার তাগিতে মাছ ধরতে যন এসব জেলেরা।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম এই লাইফ জ্যাকেট প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আকষ্মিক এক ঘুর্ণিঝড়ে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার একটি গ্রামেরই ১৮ জেলের শরীর সমাধি হয়েছে সাগরে। সে দিন তাদের কাছে এমন জীবণ রক্ষাকারী উপকরণ থাকলে এ ধরণের মর্মান্তিক ঘটনা হয়তো ঘটতো না।

টিডিআরএফে’র মো. মাহমুদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, আইএমআরএফ এ অঞ্চলেরর জেলেদের জন্য মোট এক হাজার লাইফ জ্যাকেট প্রদান করেছে। যার মধ্যে ৬ শ’ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন এবং ৪শ’ টিডিআরএফ ও চিংড়ি গবেষনা কেন্দ্র উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলেদের মাঝে বিতরণ করে।

পরবর্তী এক বছর মাছধরা ট্রলারে (বোটে) জেলেরা নিয়মিত এই লাইফ জ্যাকেট ব্যাবহার করবে এমন শর্ত সাপেক্ষে ২৮টি বোটের ৩৯২ জেলেকে আজ এই জীবণ রক্ষাকারী সরঞ্জাম দেওয়া হলো। লাইফ জ্যাকেট পাওয়া অধিকাংশ জেলেদের বাড়ি কচুয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বগা ভাষা গ্রামে বলেও জানান তিনি।

লাইফ জ্যাকেট পেয়ে জেলার কচুয়া উপজেলার বগা জেলে আক্কাস আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সাগরে যাবার সময় এখন থেকে সব সময় এই জ্যাকেট পরবো। আগে আমাদের এমন জ্যকেট থাকলে অনেক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতাম।

একই সাথে দুর্গম সাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দস্যুতাসহ নানা প্রতিকূলতা থেকে বাঁচাতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের যোগাযোগ রক্ষার জন্য প্রতিটি বোটে (ফিসিং ট্রলারে) ওয়ারলেস ফোনের ব্যবস্থা করতে দাবি জানান জেলেরা।

০২ ফেব্রুয়ারি :: স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আইএইচ/এনআরএ/বিআই
বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1272 Posts)