নিভল সুন্দরবনের আগুন, পুড়ে গেছে সাড়ে ৪ একর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনে নাংলি টহল ফাঁড়ি এলাকায় লাগা আগুন নিভেছে।

দু’দিন চেষ্টার পর শনিবার (২৭ মে) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো গেছে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকরি পরিচালক (ডিএডি) মাসুদুর রহমান সরদার।

নাংলি টহল ফাঁড়ির মাদ্রাসার ছিলা এলাকায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পায় বনকর্মী ও স্থানীয়রা। এর স্থানীয় শ’ মানুষ এবং বন বিভাগের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে।

মাসুদুর রহমান সরদার বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিভানো সম্ভব হয়েছে। এখন ওই এলাকার আর কোথাও আগুন বা ধোঁয়া নেই। অগ্নিকাণ্ডের কারণে নাংলি টহল ফাঁড়ির মাদ্রাসার ছিলা এলাকায় সাড়ে চার একর এলাকার লতাগুল্ম পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রনে নাংলি টহল ফাঁড়ির মাদ্রাসার ছিলা এলাকার প্রায় পৌনে ৫ একর এলাকা জুড়ে স্থানীয়দের নিয়ে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ফায়ার লাইন (অগভীর নালা) কাটে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বনকর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। আজ বিকেলে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। ওই এলাকার আর কোথাও কোন আগুন বা ধোঁয়া নেই। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখন বন থেকে বেরিয়ে আসছে।

ডিএফও সাইদুল ইসলাম জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে চাঁদপাই রেঞ্জ সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মেহেদীজ্জামান প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে। আগামীকাল রোববার থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে। তাদের প্রতিবেদন পেলে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

এসিএফ মেহেদীজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

বনের যে অংশে আগুন লেগেছে সেখানে বড় কোন গাছ নেই। গেওয়া, বলা ও সিংড়াসহ লতাগুল্ম জাতীয় গাছ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি মাসুদুর রহমান সরদার বলেন, আগুনের কারণ জানতে বন বিভাগ তদন্ত করছে। তবে আমরা যতদূর জানতে পেরেছি বনের যে এলাকায় আগুন লেগেছে সেখানে মধুসহ কোন প্রকার বনজ সম্পদ আহরণের অনুমিত নেই। সেই হিসেবে মধু সংগ্রহকারী বা জেলেদের কারণে আগুন ধরার কথা না। তবে আগুন কি কারণে লেগেছে তা এখনই বলা সম্ভব না।

অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপনে বন বিভাগ গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাছে কোন সহযোগীতা চাইলে তারা করবেন বলেও জানান তিনি।

বন বিভাগ জানায়, শুক্রবার সকালে ধানসাগর স্টেশনের ‘নাংলি টহল ফাঁড়ি’র মাদ্রাসার ছিলা এলাকায় ধোয়ার কুন্ডুলি দেখা যায়। এর আগে গত বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনভুক্ত নাংলী ক্যাম্প-সংলগ্ন পচাকোড়ালিয়া, টেংরা ও তুলাতুলী বিলের মিঠা পানির মাছ আহরণ ও জাল পাতার স্থানগুলো পরিষ্কার করতে দুর্বৃত্তরা অন্তত চার থেকে পাঁচ দফায় পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করে।

গত বছর লাগা পাঁচ দফা আগুনের অভিজ্ঞতায় বন সংলগ্ন এলাকার অধিবাসীদের মতো বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তারাও আগুন লাগানো হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন।

এইচ//এসআই/বিআই/২৭ মে, ২০১৭

** পুরোপুরি নেভেনি সুন্দরবনের আগুন

** সুন্দরবনে আগুন, পুড়ে গেছে ১ একর বনভূমি

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1301 Posts)