শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের বই ভাঙারির দোকানে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

বাগেরহাট শহরের একটি ভাঙারির দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য দেওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ১৬ বস্তা বই উদ্ধার করা হয়েছে।বাগেরহাট শহরের একটি ভাঙারির দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ১৬ বস্তা বই উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় বিক্রিনিষিদ্ধ বই কেনার অভিযোগে পুরোনো কাগজ ও মালামাল (ভাঙারি) ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩১ মে) বিকেলে শহরের ছোট কবরস্থান মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মো. আলিমুজ্জামান মিলন ও নাহিদা আক্তার ওই জরিমানা করেন। উদ্ধার হওয়া চলতি (২০১৮) শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ওই পাঠ্যপুস্তকগুলো সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

নির্বাহী হাকিম মো. আলিমুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছোট কবরস্থান মোড়ের রফিকুল পেপার স্টোরে অভিযান চালিয়ে বিক্রিনিষিদ্ধ ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ১৬ বস্তা পাঠ্যপুস্তক উদ্ধার করা হয়। বইগুলো সবই ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের। বুধবার শহরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-ইসলাহ্ একাডেমির দুই কর্মচারি এম হোসাইন টিপু ও লোকমান হোসেনের কাছ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে মোট ৮ হাজার ৪৫০ টাকায় ওই বইগুলো কিনেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন রফিকুল।

ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ওই বই কেনার অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উদ্ধার করা বইগুলো নিজের জিম্মায় রাখার কথা স্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ মাকসুদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য দেওয়া ওই বইগুলো কীভাবে বাইরে এলো, তা খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য আসা বই আগে একটা সময় জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিতরণ হতো। তবে পাঁচ-ছয় বছর ধরে এই বইগুলো সরাসরি উপজেলায় চলে যায়। ফলে বই বিতরণ প্রক্রিয়ায় এখন জেলা শিক্ষা অফিসের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তবে আমরা দেখাশোনা করি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের ৬৫০ কেজি বই উদ্ধার করা হয়েছে। এই বইগুলো বিক্রয়যোগ্য নয়। যারা এগুলো বিক্রি করেছে, তারা অপরাধ করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. কামরুজ্জামান বলেন, যে ব্যবসায়ীর দোকান থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়েছে তিনি দাবি করেছেন, শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি ওই বই কিনেন। এই বই বিক্রি নিষিদ্ধ। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা এভাবে বই বিক্রি করতে পারেন না। বিষয়টি ক্ষতিতে দেখতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এইচ//এসআই/বিআই/৩১ মে ২০১৮

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1498 Posts)