বাগেরহাটে বিএনপি-জামায়াত ও আ’লীগের মধ্যে সংঘর্ষ

বাগেরহাটে বিএনপি-জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত্য ১৫ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।
Bagerht-Shadar-mapরোববার রাত আনুমানিক ৭টা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুকোড়ামারা গ্রামের ওসমান শেখের চায়ের এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
আহতদের বাগেরহাট সদর হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল, চিতলমারী উপজেলা হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বাগেরহাট ইনফোকে জানান, সন্ধায় আমাদের দলের এনামুল নামের এক কর্মী স্থানীয় ওসমান শেখের চায়ের দোকানে বসে ছিল। এসময় আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা তাকে মারধর করে ধরে নিয়ে যাবার সময় বিএনপি কর্মীরা তাদের কাছ থেকে এনামুলকে ছিনিয়ে রাখে।
পরে স্থানয় আওয়ামী লীগর নেতাকর্মীর সংগঠিত হয়ে তাদের দলে নেতাকর্মীদের ৩-৪টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় মহিলাসহ অন্তত ৭-৮জন আহত হয়। তবে তাৎক্ষনিক ভাবে আহতদের নাম জানাতে পারেন নি তিনি।
এসময় তিনি জানান, শহরে চিকিৎসার জন্য এলে আবারও হামলার আশঙ্কায় তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে এবং পার্শবর্তি চিতলমারী উপজেলার হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মুকুল সরদার পাল্টা অভিযোগ করে বাগেরহাট ইনফোকে জানান, খুলনায় কাজ সেরে মটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে কুকোড়ামারা গ্রামের ওসমানের চায়ের দোকানের সামনে মটরসাইকেল থামিয়ে চা দিতে বলি। এর একটু পরেই জামায়াত- বিএনপির ৪০-৫০ জন সমর্থক রামদা ও কুড়াল নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় তাদের ঠেকাতে গিয়ে আমার বাম হাতের তালুতে কোপ লাগে। পরে আমি মটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যাই। তারা ওই দোকানে বসে থাকা শ্রমিক লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যাকে পেয়েছে তাদেরও এলোপাথাড়ী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। হামলা শেষে চলে যাবার সময় আমার ডায়াং মটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে তারা দুই দল সংগঠিত হয়ে ওই হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
বাগেরহাট সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও ২টি মটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেত পারেনি।
আহতদের মধ্যে- বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো. মুকুল সরদার, যুবলীগের সদস্য সেকেন্দার মলিক(৫০), সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি হুমায়ুন শেখ, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল খান(৩০), ছাত্রলীগের সহসভাপতি জিহাদ জমাদ্দার, শিহাব (১৭), ইসরাফিল (২২), আফজাল শেখ (১৭) এর নাম জানা গেছে।
এব্যাপারে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল কবীর চৌধুরী বাগেরহাট ইনফোকে জানান, এলাকায় জামায়াত-বিএনপির সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় আ’লীগ এর কয়েক জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রসীরা।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় জড়িত দের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। তবে এখন(রাত ১১টা) পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
২০ অক্টোবর ২০১৩ :: নিউজ এডিটর,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসআইএইচনিউজ ডেস্ক/বিআই
ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)