ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীকে দেখতে এলেন মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান

শরণখোলার রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর সেই ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে দেখতে এলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান।

শরণখোলার রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর সেই ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে দেখতে এলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে দেখতে এলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর হাসপালে তাকে দেখতে যান তিনি। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষনের পরে জোর পূর্বক ভাবে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। তাতে মেয়েটি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে । তিনি মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি। আর এই জঘন্য ঘটনার মুল হোতাকে আটকের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে অনুরোধ করেন।

বাগেরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কিশোরীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট দুপুরে একা বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী মৃত রাশেদ তালুকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ঘরে ঢুকে জোর করে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা প্রকাশ করলে, তাকে ও তার মাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় লম্পট দেলোয়ার। এ অবস্থায় ভয়ে এলাকা ছেড়ে স্কুল ছাত্রীটি চট্রগ্রামে গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ইতিমধ্যে সে অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। ৩ মাসের মাথায় সে এলাকায় ফিরে আসে। এ অবস্থায় ধর্ষক দেলোয়ার নিজেকে বাঁচাতে সুকৌশলে এক গ্রাম্য ধাত্রীকে দিয়ে গোপনে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটায়। অপচিকিৎসার ফলে মেয়েটির রক্তরণ বন্ধ না হলে, প্রথমে শরণখোলা হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অর্থাভাবে মেয়েটির চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায়, ফেরত এনে বাগেরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে বাগেরহাট হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে অসহায় মেয়েটি। বাগেরহাট হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোজাফ্ফর হোসাইন জানান, কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানোর কারণে রক্তরণ বন্ধ হচ্ছে না। তার জরায়ুর সমস্যা রয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে।

ধর্ষিতার মা হাসপাতালে বসে সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ২ বছর আগে লম্পট দেলোয়ার তাকে কয়েকবার কুপ্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে তিনি রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর চেয়ারম্যান সালিস বৈঠকে দেলোয়ারকে ধিক্কার জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট দেলোয়ার ওই গৃহবধুর উপর প্রতিশোধ নিতে সুযোগ বুঝে তার স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে লম্পট দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করে গত ১৯ জানুয়ারি শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলেও পুলিশ আসামীকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি দেলোয়ারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)