অস্তিত্বের সংকটে ছোট কোলকাতা খ্যাত মোরেলগঞ্জ বন্দর !

morrelganj-Portছোট কোলকাতা খ্যাত এক সময়ের ব্যবসা বানিজ্যের প্রানকেন্দ্র মোরেলগঞ্জ বাজার এখন বিলুপ্তির পথে।
পানগুছি নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে মোরেলগঞ্জ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট। বৃটিশ আমলে নির্মিত শেডঘর আজ শুধুই স্মৃতি।

এক সময় এই শেড ঘরে হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করতে পারত। পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাংগনে শুধু শেডঘর নয় মোরেলগঞ্জ বাজারের অর্ধেকেরও বেশি দোকানপাট, বিখ্যাত মাল খানার পুকুর, রুরাল ডিস্ পেনসারি, গোডাউন সহ বিস্তীর্ন এলাকা হারিয়ে গেছে।

হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক কালাচাঁদ আউলিয়ার মাজার, বাজারের অবশিষ্ট অংশ। এসিলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বৃটিশ নাগরিক মোরেলদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কুঠিবাড়িসহ অন্যান্য স্থপনা।

ঐতিহাসিক পুরাতন এ শহর রক্ষার্থে পাইলিং এর কাজ শুরু হলেও তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কার্যকর ভাবে বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় মোরেলগঞ্জ বাজার। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে নিয়মিত বাজারে আসা হাজারো ক্রেতার, তাছাড়া পৌর সভাধীন রাস্তা ঘাট এর অবস্থাও এখন চরম শোচনীয়।

একসময় মোরেলগঞ্জ বাজার প্রসিদ্ধ ছিল ধান, শুপারি, নারিকেল খেজুর ও তালের গুড়ের কেনা বেচার জন্য। কিন্তু ঘষিয়াখালি সংযোগ খাল কাটার ফলে এ সমস্ত দ্রব্যের উপর নেতি বাচক প্রভাব পরতে থাকে। নদ নদী ও খাল বিলে লবনাক্ততার পরিমান বেরে যাওয়ায় মিষ্টি পানির এলাকায় পর্যবসিত হয় লবনাক্ততার এলাকায়।

ফলে, ফসল, ফলমুল ও মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেখা দেয় মারাত্মক বিরুপ প্রতিক্রিয়া।

ব্যাপক জনগোষ্ঠ্যি এ বিপর্যয়ের শিকার হয়। সংযোগ খাল কাটার পর নদী দিয়ে মালবাহি বড় বড় জাহাজ ষ্টিমার সহ অন্যান্য জলযান চলাচলের সংখ্যা বেরে যাওয়ায় মোরেলগঞ্জ বন্দরসহ নদীর দুই তীরে ভাংগনের সৃষ্টি হয়। গৃহ হারা ও ভুমি হারা হয়ে অসংখ্য পরিবারকে পথে বসতে হয়।

প্রাকৃতিকভাবে এ সংযোগ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকার জনগনের মাঝে স্বস্তির ভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমান সরকার পুনরায় সংযোগ খালটি কাটার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এই সিদ্ধান্ত মোরেলগঞ্জ বন্দর তথা নদীতীরে ব্যাপক এলাকার জন্য হুমকি স্বরুপ।

মোরেলগঞ্জ বন্দর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার্থে সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য ঢাকাস্থ মোরেলগঞ্জ সমিতির সম্মানিত সদস্য বৃন্দ ও অন্যান্য সবাইকে ভুমিকা রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কালক্ষেপন লাখো লাখো মানুষের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিবে।

– ডা: শিব্বির আহমেদ
অ্যাডভাইজার, বাগেরহাট ইনফো ডটকম,
প্রাক্তন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও সিনিয়র লেকচারার, ম্যাটস, বাগেরহাট।।

Dr. Shibbir AhmedWriter: Dr. Shibbir Ahmed (11 Posts)

ডা: শিব্বির আহমেদ - প্রাক্তন সিনিয়র লেকচারার, ম্যাটস, বাগেরহাট।।