আ’লীগ নেতার বন্দুকের গুলিতেই মৃত্য হয় !

⇓⇑ ফলোআপ ⇑⇓

Bagerhat-mapবাগেরহাটে মোড়েলগঞ্জে স্থানীয় আ’লীগ নেতার বন্দুকের গুলিতেই তাঁর মোটরসাইকেল চালক ও সহযোগী মাসুম সরদারের (২৫) মৃত্যু হয়।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে, এঘটনায় ওই নেতার নামে মামলা হয় নি। বরং শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ওই আওয়ামী লীগ নেতা বাদি হয়ে তাঁর বডিগার্ডের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত মাসুম জিউধারা ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার ওরফে বাদশা মেম্বরে একান্তু সহযোগী ছিলেন। তিনি এই ইউনিয়নের পালেরখন্ড গ্রামের আব্দুর রশিদ সরদার এর ছেলে।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম খান শুক্রবার রাত সোয়া ৮ টার দিকে বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ওই বন্দুকের মালিক বাদশা মেম্বর বদি হয়ে তার বডিগার্ড পালেরখন্ড গ্রামের মো. জব্বার মোলার ছেলে মিজান মোল্লার (৩৫) বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন (মামলা নং ১৪)।

এঘটনায় মিজান মোল্লাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে কোন ধারায় মামলা করা হয়েছে তা তিনি জানান নি।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে মাসুদ সরদার বাদশাকে নিয়ে মটর সাইকেল চালিয়ে পার্শ্ববর্তি মংলা উপজেলা এলাকা থেকে জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী গ্রামে ফিরছিলেন। জিউধরা-মংলা সড়কে পালেরখন্ড গ্রামে এলে অসাবধানবশত বাদশার বন্দুকের গুলিতে মাসুম নিহত হন।

মাসুম নিহত হবার পর এ ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য বাদশার লোকজন বাদশার উপর হামলার অপপ্রচার চালায়। বাদশার মুঠোফোনে ফোন করলে তার ছেলে সুমন দাবি করেন, তার বাবাকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে। সেই গুলি চালকের গায়ে লাগে। এতে চালক নিহত হয়। তার বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে সে জানান, বাবা অজ্ঞান রয়েছে। তার সাথে কথা বলা যাবে না।

ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা, অতিরিক্ত পুরিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক মিঠু, মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আসলাম খানসহ মোরেলগঞ্জ থানা ও জিউধরা ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।

বিষয়টি সন্দেহ জনক হওয়ায় পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদশার একটি বৈধ দোনলা বন্দুক জব্দ করে। একই সাথে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাগেরহাট ডিবি অফিসে নিয়ে আসে।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা জানান, বাদশার না-কি অন্য কারো বন্দুকের গুলিতে মাসুম নিহত হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাদশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা জানায়, ওই সময় মটরসাইকেলে তারা তিনজন ছিল। সে মটরসাইকেল থামিয়ে বন্দুকটি তার বডিগার্ড মিজানের হাতে দিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায়। এসময় আকস্মিক ভাবে গুলি বের হয়ে যায়। সেই গুলিতে ঘটনাস্থলেই মাসুম নিহত হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাদশা মেম্বার ওই এলাকার মূর্তমান আতঙ্ক। তার একটি বড় বাহিনী আছে। ঘের দখল, বাড়ি দখল থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করে না। এমনি ছাত্রলীগ নেতারা রক্ষা পায় নি তার হাত থেকে। আওয়ামীলীগের এক এমপির নির্দেশে পুলিশই তাকে সেল্টার দেয়।

স্থানীয়রা জানায়, সাংবাদিকদের কারণে বাদশার প্রথম নাটক ব্যর্থ হয়েছে। এবার পুলিশ এবং ওই এমপি মিলে দ্বিতীয় নাটকের দৃশ্য শুরু হয়েছে। এবার বলির পাঠা তার বডিগার্ড। বাদশাকে বাঁচানোর জন্য এবার বডিগার্ডের নামে মামলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তবে বাগেরহাট ইনফো ডটকম-এর থেকে ওই বডিগার্ড মিজানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা সম্ভব হয় নি।

বাগেরহাট আদালতের আইনজীবী মোঃ শহিদুল ইসলাম বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে বলেন, বন্দুকের লাইসেন্স যার নামে ঘটনার জন্য সে-ই দায়ি থাকবে। এটা আদালতে তার প্রমাণ করতে হবে যে, সে কেন তার বন্দুক অন্যর হাতে দিয়েছে।

তার দাবি এমন ঘটনার ক্ষেতে মামলা হলে বন্দুক মালিকের নামে হবে।

আর এখানে বাদশার বাদি হয়ে মামলা করার কোন সুযোগ আছে কি-না জনাতে চাইলে ওই আইনজীবী এই প্রতিবেদককে জানান, তা কোন আইনে আছে বলে, আমার বোধগম্য নয়।

১৪ নভেম্বর ২০১৪ :: আরিফ সাওন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এসএমএস/আই হক-এনআরএডিটর/বিআই
Arif ShaonWriter: Arif Shaon (13 Posts)