‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে মানুষ ভারত বিদ্বেষী হচ্ছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

bagerhat-pic-124-11-2016road‘সুন্দরবনের কাছে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আজ ভারত বিদ্বেষি হয়ে উঠছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনে পূর্ব নির্ধারিত সভা করতে না পেরে শহরের দশানীর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত তার দেশের সুন্দরবন থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে দেয়া হয়নি। সেখানে বাংলাদেশে সুন্দরবন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

আমরা চাইনা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংসকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হোক। শুধু আমরা না সারা বিশ্ব চাইছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যেন না হয়।

সুন্দরবন রক্ষায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রামপাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি রামপাল অভিমুখে মিছিলপূর্ব দুপুরে বাগেরহাটের সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনে সমাবেশের ডাক দেয়। তবে পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ স্থলে বাগেরহাট জেলা তাঁতীলীগ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দাবিতে সমাবেশ ডাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন কাউকেই ওই স্থানে যেতে দেয় নি।

পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ করতে না পেরে জেএসডি’র সভাপতি আরও বলেন, আমরা সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নিয়েছি। আমরা হল ভাড়াও করেছি। আমাকে হলের মধ্যেও সমাবেশ করতে দেয়া হলো না আবার সার্কিট হাউজ থেকেও যেতে দেয়া হচ্ছে না। এটা গনতান্ত্রিক দেশ আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গনতান্ত্রিক ভাবে দেশ পরিচালনা না করে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে ক্রাস ফায়ার দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন।

এটাতো জেদ, ক্ষোভ বা চ্যলেঞ্জের বিষয় নয়। ওয়ার্ড হেরিটেজ সুন্দরবন রক্ষার বিষয়। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সাথে চ্যলেঞ্জ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।’

বাগেরহাটে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ করতে না পেরে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সভা করে জেএসডি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেএসডি’র কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ গোফরান, সহ-সভাপতি তানিয়া ফেরদৌসী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ সিরাজ মিয়া, বাগেরহাট জেলা সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে সভা থেকে আগামী ২৬ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচীর ঘোষনা কারে দলটি।

তবে পুলিশের দাবি তারা কর্মসূচি পালনে বাঁধা দেয় নি।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, একই স্থালে দুটি পক্ষ সমাবেশ ডাকায় আমরা নিরাপত্তার সার্থে কাউকে সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনে যেতে দেইনি। তবে সার্কিট হাউজে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন।

এইচ/এসআই/বিআই/২৪ নভেম্বর, ২০১৬

বাগেরহাট ইনফো নিউজWriter: বাগেরহাট ইনফো নিউজ (1301 Posts)