সর্বশেষ
প্রচ্ছদ / খবর / বাগেরহাট জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি, এক নেতার পদত্যাগ

বাগেরহাট জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি, এক নেতার পদত্যাগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাগেরহাট ইনফো ডটকম

বাগেরহাট জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির পাঁচ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গত মঙ্গলবার।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সংক্ষিপ্ত এই কমিটিকে বলছেন ‘সুপার ফাইব’। কমিটির এই সদস্যরাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন। ঘোষিত নতুন কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে হারুন আল রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজনকে। তাঁরা দুই জনই জেলা ছাত্র দলের সাবেক নেতা।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে, নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ হোসাইন গত বুধবার পদত্যাগ চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছেন। পদত্যাগের ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দল বিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ ঘরানার। এই সাথে ঘোষিত যুবদালের এই কমিটি অবিলম্বে বাতিল করা না হলে যুবদলের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতারা একযোগে পদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেওয়া হয়েছে হাতে লেখা ওই পদত্যাগপত্রে।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ হোসাইন জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি জেলা বিএনপি সভাপতি সভাপতি এমএ সালামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অপরদিকে, জেলা বিএনপি’র মতামতকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা।

সদ্য বিদায়ী যুবদলের সভাপতি মেহেবুবুল হক কিশোর ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা বাবু বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালামের আস্থাভাজন অনুসারি বলে পরিচিত।

তিনি তার আস্থাভাজন এই দুই নেতাকে আবারও স্বপদে বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি বিএনপির সভাপতি এম এ সালামের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি হারুন আল রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজন জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বিরোধী বলে পরিচিত।

তবে বিএনপির অন্য একটি অংশ নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। রাজনীতির মাঠে ভূমিকা রাখা বিএনপি’র অন্যতম দুটি অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে কমিটি নিয়ে নিজেদের ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় আগামী দিনে রাজনীতিতে প্রতিপক্ষদের মোকাবেলায় বাগেরহাটে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।

এরআগে গত ৫ জুন কেন্দ্র থেকে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় তা প্রত্যাখান করে ছাত্রদলের পদ বঞ্চিতদের একটি অংশ স্থানীয় বিএনপি’র সভাপতি এম এ সালামকে দায়ী করেছিলেন।

ঘোষিত যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজন জেলা ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি এবং সভাপতি হারুন আল রশিদ আগের কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্বে ছিলেন।

নতুন কমিটিতে নাজমুল হুদাকে জেষ্ঠ্য সহসভাপতি, রফিকুল ইসলাম রকিবকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে মেহেবুবুল হক কিশোর জেলা যুবদলের সভাপতি ও আইয়ুব আলী মোল্লা বাবু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। আগের কমিটিও পাঁচ সদস্যের করা হয়েছিল। তারা গত পাঁচ বছরে জেলা যুবদলের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ ছিল পদ বঞ্চিত দলের নেতাকর্মীদের।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বাগেরহাট জেলা যুবদলের পুরানো কমিটি বিলুপ্ত করে পাঁচ সদস্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলো। এই কমিটি যুবদলকে সংগঠিত করে আগামীদিনের নেতৃত্বকে এগিয়ে নিবে।

সদ্যগঠিত কমিটির পদত্যাগী সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, নতুন কমিটির সভাপতি হারুন আল রশিদের বাড়ি বাগেরহাট শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে মোল্লাহাট উপজেলায়। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নেন, তিনি দল বিচ্ছিন্ন নেতা। আর সাধারণ সম্পাদক মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজন ২০১৪ সালের পর থেকে নিজেকে দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

তাই আমি এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জন বিচ্ছিন্ন এই নেতারা যুবদলের নেতৃত্বে থাকলে আগামীদিনে বাগেরহাটে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এবং তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে উল্টো আওয়ামী লীগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মন্তব্য করেন ওই নেতা।

অবিলম্বে কেন্দ্র ঘোষিত ওই কমিটি বাতিল না করলে যুবদলের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতারা একযোগে পদত্যাগ করাসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাট শহর বিএনপির ঘাঁটি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে সরকার বিরোধী আন্দোলনের ডাক এসেছে। কিন্তু আমরা শহরে কোন সভা সমাবেশ করতে পারিনি।

জেলা বিএনপির এক নেতার একক সিদ্ধান্তের কারনে বাগেরহাটে বিএনপির রাজনীতি ধ্বংসের পথে। মামলা, জেলজুলুমের ভয়ে তার অনুগতদের দিয়ে কোন রকমে গোপণে দ্বায়সারা কর্মসূচি পালন করে। 

নতুন কমিটির বিষয়ে সদ্য বিদায়ী জেলা যুবদলের সভাপতি মেহেবুবুল হক কিশোর এই প্রতিবেদককে বলেন, বিরোধী দলে যাওয়ার পর মিথ্যা নাশকতাসহ অসংখ্য মামলার আসামী হয়েছি। পুলিশ ও বিরোধীদলের ভয়ে অধিকাংশ সময় এলাকায় থাকতে পারিনা। গ্রেপ্তারের ভয়কে উপেক্ষা করে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করেছি। বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছি।

‘পারিবারিকভাবে আমরা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে ছিলাম। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি। রাজনীতির মাঠে অগ্রহী ভূমিকার কারনে যুবদলের নেতৃত্বে ছিলাম তা সবাই জানে। এটা কারও দয়া বা করুণায় পাইনি।’

সরকারি দলের হামলা-মামলায় এলাকায় থাকতে পারিনি। তাই যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারিনি। কেন্দ্র কেন আমাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি দিল তা আমার বোধগম্য নয়।

জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম এই প্রতিবেদককে বলেন, বাগেরহাটে বিএনপির রাজনীতিতে কোন নেতার কী ভূমিকা তা দলের নেতাকর্মীরাই ভাল জানেন। গত ৯ বছরে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের পদধারী ওই নেতারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে বাগেরহাটের রাজপথে কী ভূমিকা রেখেছেন তা তুলে ধরতে সাংবাদিকের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

যুবদলের যারা নেতৃত্বে ছিলেন তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থাকার কারনে যুবদল নেতারা মিথ্যা নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন। জেল খেটেছেন। তারা এমনি এমনি পদ পায়নি। তারা মাঠের নেতা।

‘যুবদলের এই কমিটি ঘোষণায় কেন্দ্র জেলা বিএনপি’র মতামতকে উপেক্ষা করেছে। যাকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি জেলা সদরে থাকেন না। তিনি যুবদলের মত একটি সংগঠনকে মোল্লাহাটে বসে কিভাবে পরিচালনা করবেন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নবগঠিত জেলা যুবদলের সভাপতি হারুন আল রশিদ বলেন, আমি জেলা ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য সহসভাপতি’র দায়িত্বে ছিলাম। পরে আমাকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্ব দেয়া হয়। ছাত্রদল থেকে বিদায় নেওয়ার পর যুবদলে আমার জায়গা হয়নি। আমি দলের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডকে সমর্থন করিনি বলে বিগত কমিটি আমাকে পদ বঞ্চিত করে রেখেছিল। বিগত কমিটি গত পাঁচ বছরে জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

‘কেন্দ্র বাগেরহাট জেলা যুবদলকে সংগঠিত করতে পুরানো কমিটি ভেঙ্গে যে নতুন কমিটি দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার কমিটির সদস্যদের নিয়ে জেলার সকল ইউনিটকে শক্তিশালী করে রাজপথের আন্দোলনে রাজপথে ভূমিকা রাখবো।’

এজি//এসআই/বিআই/০৫ জুলাই ২০১৮
** ৬ বছর পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি
‘নয়-ছয়ে’র অভিযোগে দু’জনের পদত্যাগ

About বাগেরহাট ইনফো নিউজ