গ্রেপ্তার আত্মঙ্কে বিএনপি নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে

‘গনতন্ত্র হত্যা আন্দোলন’ ছেড়ে বাগেরহাটে বিএনপি’র নেতারা এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। রাজধানীতে দলীয় চেয়ারপারসন ‘অবরুদ্ধ’ থাকলেও বাগেরহাটে মাঠে নেই দলীয় নেতাকর্মীরা।

বাগেরহাটে মাঠে নেই বিএনপি নেতারাসূত্র জানায়, মূলত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর সরদার লিয়াকত আলীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় দলটির বেশির ভাগ নেতাকর্মী।

বুধবার জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ ছাড়া জেলার কোথাও মাঠে নামেনি বিএনপির নেতারা। ২০দলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, একের পর এক মিছিল-সমাবেশ করে মাঠ দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক খাঁন মনির হোসেন বলেন, ‘বাগেরহাটে বিএনপি নাই!’

জেলা বিএনপি সভাপতি এম এ সালাম বাস করেন ঢাকায়। তিনি বিএনপির নামে একটি লিমিটেড কোম্পানি করেছেন। তার ব্যক্তিগত লোকদের দিয়ে কমিটি করায় দলের দুঃসময়ে কোনো নেতা বাগেরহাটে নাই। সবাই চলে গেছে আন্ডারগ্রাউন্ডে।

জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বাগেরহাটে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা জেলা বিএনপির একাধিক নেতা। তারা জানান, কেবল জেলা বিএনপির নেতারা নয়, কর্মীরাও এখন রাতে বাড়ি থাকতে পারছেনা। গ্রেপ্তার আর মিথ্যা মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

তবে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী রেজা বাবু বাগেরহাট ইনফো ডটকমকে জানান, শহরের বাড়িতে দফায়-দফায় পুলিশি তল্লাশি ও শাসকদলের হামলার ভয়ে তিনি পলাতক থেকে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।

সোমবার বাগেরহাট আইনজীবী সমিতি ভবনে প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয় জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামন দিপুকে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও বক্তব্য রাখায় পুলিশ তাকে আটকে রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, নাশকতা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বাগেরহাটে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাসহ জেলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া নেতারা হলেন- বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌর বিএনপিরসহ সভাপতি জাকির হোসেন বাচ্চু, মোড়েলগঞ্জ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল হোসেন রায়হান, এসএম কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল হাওলাদার।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার তিনজন একটি নিয়মিত মামলার আসামি। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যেকোন ধরনের সহিংসতা ও নাশকতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

০৬ জানুয়ারি ২০১৫ :: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,
বাগেরহাট ইনফো ডটকম।।
এস/আই হক-এনআরএডিটর/বিআই
ইনফো ডেস্কWriter: ইনফো ডেস্ক (1855 Posts)